ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে সন্তানহারা মা, কাঠগড়ায় বাঁশদ্রোণীর স্কুল – এবেলা

ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে সন্তানহারা মা, কাঠগড়ায় বাঁশদ্রোণীর স্কুল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাঁশদ্রোণীর মহিষবিদ্যা মন্দির স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হলেন তার মা। শনিবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে ছেলের স্কুলের ব্যাগ ও ছবি জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তানহারা ওই মা। অসুস্থ অবস্থায় আয়ুষকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে পুরো ক্লাস করানোর পিছনে স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তিনি। সব কিছু শুনে প্রয়োজনীয় পুলিশি পদক্ষেপ ও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

গত ১৩ মে স্কুলে গিয়ে অসুস্থ বোধ করলেও অভিযোগ, আয়ুষকে ছুটি দেওয়া হয়নি এবং তার পরিবারকেও কিছু জানানো হয়নি। নিয়ম মেনে স্কুল ছুটির পর সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় শিশুটি। চিকিৎসকদের দাবি, মাথায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সে কোমায় চলে যায় এবং ১২ দিন লড়াইয়ের পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় গাফিলতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হলেও দীর্ঘ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও এখনও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনার কারণ ও গাফিলতির অভিযোগ

প্রাথমিক তদন্ত ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার মূল কারণ স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও সংবেদনশীলতার অভাব। একটি ৮-৯ বছরের শিশু অসুস্থ বোধ করার পরও তাকে বাড়িতে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি, এমনকি পরিবারকে খবর দেওয়ার ন্যূনতম দায়িত্বটুকুও পালন করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে সে যখন অচৈতন্য হয়ে পড়ে, তখনও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে টিচার্স রুমে ফেলে রাখা হয়। এই দীর্ঘমেয়াদি গাফিলতি ও সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবই শেষ পর্যন্ত একটি সম্ভাবনাময় শিশুর অকালমৃত্যু ডেকে এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রশাসনিক তৎপরতা

এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন বাঁশদ্রোণী এলাকায় তীব্র জনক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর পুলিশি তদন্তের গতি আরও বাড়বে এবং অভিযুক্ত স্কুল কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতা বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *