জাতীয় পুরস্কার জয়ী মিঠুনও ছিলেন ক্ষুধার্ত! সংগ্রামের সেই অজানা কথা ফাঁস করলেন ছেলে মিমো – এবেলা

জাতীয় পুরস্কার জয়ী মিঠুনও ছিলেন ক্ষুধার্ত! সংগ্রামের সেই অজানা কথা ফাঁস করলেন ছেলে মিমো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বলিউডের মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনের গল্প মানেই এক অদম্য লড়াইয়ের উপাখ্যান। আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি অনুপ্রেরণার নাম হলেও, সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর রাস্তাটি মোটেও মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি তাঁর ছেলে মিমো চক্রবর্তী বাবার জীবনের এমন কিছু অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন, যা চমকে দিয়েছে অনুরাগী থেকে শুরু করে গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে। মুম্বইয়ে নবাগত হিসেবে এসে রাতের পর রাত ফুটপাতে কাটানো কিংবা পুলিশের তাড়া খাওয়ার দিনগুলো আজ এই কিংবদন্তি অভিনেতার কাছে এক তিক্ত অথচ শিক্ষণীয় স্মৃতি।

জাতীয় পুরস্কারের পরেও অন্নসংস্থানের লড়াই

মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনকাহিনির এক অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী অংশ সামনে এনেছেন মিমো। মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরও যে অভিনেতার ভাগ্যের চাকা দ্রুত ঘোরেনি, তা এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন তিনি। মিমোর কথায়, সেই সময় পুরস্কার জেতার পর এক সাংবাদিক বাবার সাক্ষাৎকার নিতে এসেছিলেন। তখন প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত মিঠুন সোজাসুজি উত্তর দিয়েছিলেন, সাক্ষাৎকার দেবেন, কিন্তু তার আগে যেন তাঁকে কিছু খেতে দেওয়া হয়। বহুক্ষণ কিছু না খাওয়ার যন্ত্রণার কাছে সেদিন পুরস্কারের জেল্লাও হার মেনেছিল। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সাফল্যের স্বাদ পাওয়ার আগে কতটা কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে।

অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ

অর্থের অভাবে জিমে সদস্যপদ নিতে না পেরে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে শরীরচর্চার সুযোগ খুঁজে নেওয়া—প্রতিটি পদক্ষেপেই ছিল তাঁর জেদ। মিমো জানাচ্ছেন, বাবার এই সংগ্রামের কথাগুলোই তাঁকে জীবনের কঠিন সময়ে হাল না ছাড়তে শেখায়। সমালোচনার মুখে পড়ে বা ব্যর্থতার সময় মিঠুন চক্রবর্তীর সেই পুরোনো লড়াইয়ের কথা মনে করেই তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পান। হিট ছবি দেওয়া বা জনপ্রিয়তা পাওয়াটাই শেষ কথা নয়, বরং সমস্ত অপমান ও অনাহারকে জয় করে তিনি যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা আজও আপামর মানুষের কাছে এক আদর্শ হয়ে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *