তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, ৫৮ বিধায়কের সইয়ের বিস্ফোরক দাবি সন্দীপনের! – এবেলা

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, ৫৮ বিধায়কের সইয়ের বিস্ফোরক দাবি সন্দীপনের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহার একটি মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দলের অন্দরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর বিদ্রোহের কথা প্রকাশ্যে এনে তিনি দাবি করেছেন, ইতিমধ্যেই ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক লিখিতভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সন্দীপনের মতে, এই সংখ্যা কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র এবং আগামী দিনে এই তালিকার দৈর্ঘ্য আরও বাড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিদ্রোহের আঁচ ও সাংগঠনিক ফাটল

দলের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে বর্তমানে নেতৃত্বের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধেই আওয়াজ তুলছেন বিধায়করা, এমনটাই দাবি বহিষ্কৃত এই নেতার। তিনি জানিয়েছেন, দলের বহু জনপ্রতিনিধি গোপনে এবং ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কালীঘাটের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার নীতির সমালোচনা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আয়োজিত সাংগঠনিক বৈঠকে বিধায়কদের অনুপস্থিতি কেবল শারীরিক অসুস্থতা নয়, বরং একে নেতৃত্বের আচরণের বিরুদ্ধে একটি নীরব প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

নেতৃত্বের দিকে সরাসরি তোপ

সন্দীপন সাহার ক্ষোভের মূল নিশানায় রয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আসার পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং বিধায়কদের গণতান্ত্রিক মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে দলের ভেতর এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি তোপ দেগেছেন। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের মুখপাত্রদের দাবি, বহিষ্কৃত হওয়ার পরেই লাইমলাইটে আসার জন্য কুৎসা রটাচ্ছেন সন্দীপন। তবে শাসকদলের অন্দরের এই সংঘাত ও বিধায়কদের বিদ্রোহের দাবি আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *