জাল শংসাপত্রে স্ত্রীকে পঞ্চায়েত প্রধান করার অভিযোগ, বনগাঁয় সস্ত্রীক গ্রেপ্তার তৃণমূলের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় জাল জাতিগত শংসাপত্র তৈরির অভিযোগে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা বনগাঁ পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ ঘোষ। অভিযোগ, ভুয়ো নথির জোরে তিনি তাঁর স্ত্রী উমা ঘোষকে পঞ্চায়েত প্রধানের আসনে বসিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে শিমুলতলার বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকে বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে জালিয়াতির ছক
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন প্রধান উমা ঘোষ সহ পাঁচজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে তপশিলি শংসাপত্র জাল করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিযোগ ওঠে। জানা গেছে, এক মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং নথি জাল করে উমা ঘোষের নামে ওই ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। এই জালিয়াতির পেছনে মূল চক্রী হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর স্বামী প্রসেনজিৎ ঘোষের নাম, যিনি পেশায় তৃণমূলের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ।
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বর্তমান প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে আদালত পর্যন্ত মামলা গড়ায়। তৎকালীন মহকুমা শাসক বনগাঁ থানার পুলিশকে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিন ধরে এই দম্পতির বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে গত ২০২৫ সালে উমা ঘোষের তপশিলি শংসাপত্রটি আইনিভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবশেষে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার রাতে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই গ্রেপ্তারি স্থানীয় প্রশাসনে দুর্নীতি রোধের ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল, যার ফলে আগামী দিনে সরকারি নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।
