মৃত্যুর ফাঁদ পেরিয়ে চার দশকের যাতায়াত, অবশেষে কি মিলবে মুক্তি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ হাওড়ার মৌখালি হালদার পাড়ায় দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলছে এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ জীবনসংগ্রাম। একটি খালের ওপর পারাপারের কোনো বিকল্প রাস্তা না থাকায়, স্থানীয় হাজার হাজার বাসিন্দা প্রতিদিন রেল ব্রিজের ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী, এমনকি শেষকৃত্যের জন্য মৃতদেহ বহন—সবকিছুই চলছে এই বিপজ্জনক রেললাইন ধরে। দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা এই সমস্যার সমাধানে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে নবগঠিত রাজ্য সরকার। সম্প্রতি রেল, জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য সেচ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শনে যান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন।
দুর্ঘটনার স্থায়ী কারণ ও প্রশাসনের উদাসীনতা
হাওড়া পুরসভার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই মৌখালি হালদার পাড়ায় প্রায় ৬০০টি পরিবার বসবাস করে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকাটি সাঁতরাগাছি স্টেশন ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। মাঝের খালটি পার হওয়ার কোনো সেতু না থাকায় বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা হাওড়া-আমতা লাইনের রেলব্রিজ। বছরের পর বছর ধরে এই বিপজ্জনক পারাপারের কারণে বহু মানুষ ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে অনেক স্কুলপড়ুয়াও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে বারবার পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এর পাশাপাশি, এই জনপদে যাতায়াতের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর বড় অংশই এখনও কাঁচা ও বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে, যা বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধানে নতুন গতি এনেছে। স্থানীয় স্তরে পরাজয় সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ভোটের আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে উদ্যোগী হয়েছেন। রেল ও সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের এই যৌথ পরিদর্শন মূলত সেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছারই ফল। এলাকাটি খতিয়ে দেখে একটি স্থায়ী ফুটব্রিজ বা বিকল্প সংযোগকারী রাস্তা তৈরি করার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত নিরাপদ হবে এবং অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে বহু তাজা প্রাণ। অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই জনপদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছানোর পথ সুগম হবে।
