জেলবন্দি অবস্থাতেই পেলেন জেলা সভাপতির পদ, আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্ত অসিত মজুমদার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ঠিক যেন সিনেমার রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্য। জেলবন্দি অবস্থায় দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইনি স্বস্তি পেলেন চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। দীর্ঘ ১৯ দিন কারাবাসের পর বৃহস্পতিবার হুগলি জেলা জজ আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার নবনিযুক্ত তৃণমূল সভাপতি ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে এই জামিন পেয়েছেন। গত বুধবার তিনি জেলে থাকাকালীনই তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে জেলা সভাপতির মতো বড় দায়িত্ব দেয়। আর তার পরদিনই এই জামিন হুগলি জেলা তৃণমূল শিবিরের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে।
গ্রেফতারি ও আইনি টানাপোড়েন
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসের শেষের দিকে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার প্রতিবাদে গত ৩০ মে অসিত মজুমদারের নেতৃত্বে চুঁচুড়ায় এক বিশাল বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ হয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির জেরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৩১ মে তাঁকে ও দলের অন্যান্য নেতাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ৪ জুন মূল মামলায় জামিন পেলেও, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে পুরনো তোলাবাজি ও পরে একটি ‘ধর্ষণের চেষ্টা’-র মামলা রুজু করে। ফলে জামিনের পথ আটকে যায় এবং তাঁকে জেলেই থেকে যেতে হয়। পরপর এমন মামলার গেরো তৈরি হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল।
দলের অন্দরে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তন রাজনীতিতে বেশ বিরল। জেলে থাকাকালীনই অসিত মজুমদারকে দলের জেলা সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা পরিষ্কার বুঝিয়ে দেয় যে, শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তাঁর গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা অপরিসীম। এই ঘটনাটি দলের নিচুতলার কর্মীদের কাছে নেতৃত্বের অটুট আস্থার একটি জোরালো বার্তা দিয়েছে। তাঁর এই মুক্তি ও নতুন পদপ্রাপ্তির ফলে হুগলিতে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে এই জেলায় দলের সাংগঠনিক শক্তি সুসংহত করতে এবং রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন একটি বড় প্রভাব ফেলবে।
