তৃণমূলের ৫৩৪ কোটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কি ফ্রিজ হচ্ছে, কোন পথে এগোচ্ছে জল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে ভোট মেটার অব্যবহিত পরেই কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাশ কার হাতে থাকবে আর দলের প্রতীক কোন গোষ্ঠী পাবে, তা নিয়ে আগামী দিনে বড়সড় যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার লাইমলাইটে চলে এসেছে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। তৃণমূলের ৫৩৪ কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা সাময়িক বন্ধ রাখা হবে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক ও ব্যাঙ্কিং মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই বেসরকারি ব্যাঙ্কের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্তাকে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তবে এই চিঠির নেপথ্যে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক নাটক। সূত্রের দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বাধীন নতুন ব্লক এই বিপুল টাকার ওপর থাবা বসাতে পারেন— এমন আশঙ্কা তৈরি হতেই আসরে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তড়িঘড়ি অরূপ বিশ্বাসকে নির্দেশ দেন, অন্য একটি বন্ধু রাজনৈতিক দলকে সাময়িক ভাবে এই গোটা টাকাটা ট্রান্সফার করে দিতে। কিন্তু কালীঘাটের সেই গোপন খবর ফাঁস হয়ে যায় ঋতব্রত শিবিরের কাছে। খবর পাওয়া মাত্রই তাঁরা পাল্টা চাল চালেন এবং অরূপ বিশ্বাসকে কড়া বার্তা পাঠান যেন তিনি অবিলম্বে ব্যাঙ্কে চিঠি লিখে অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। অন্যথায় পরিস্থিতি আইনি জটিলতার দিকে মোড় নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আইনি জটিলতা ও ব্যাঙ্কের নিয়ম
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ক্ষেত্রে সাধারণত দু’টি পথ খোলা আছে বলে মনে করছে ব্যাঙ্কিং মহল। প্রথমত, অ্যাকাউন্টের সব স্বাক্ষরকারীর সই করা যৌথ আবেদন এবং দ্বিতীয়ত, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ। সাধারণ ভাবে এই ধরনের বড় অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে একজন স্বাক্ষরকারী থাকেন না। যদি একাধিক স্বাক্ষরকারী থেকে থাকেন, তবে শুধুমাত্র অরূপ বিশ্বাসের একার চিঠিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাকি স্বাক্ষরকারীদের মতামত বা সই কেন নেই, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।
সম্ভাব্য প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
যদি অরূপ বিশ্বাসের একক চিঠিতে ব্যাঙ্ক সাড়া না দেয়, তবে ঋতব্রত শিবির এই চিঠিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তাঁরা এই চিঠিকে সামনে রেখে থানায় একটি এফআইআর দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা দলীয় বিধায়কদের থেকে সই সংগ্রহ শুরু করেছেন, যেখানে ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। এই এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য ব্যাঙ্কে নির্দেশ পাঠাতে পারে। অন্যথায়, আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আইনি পথও খোলা রয়েছে। সব মিলিয়ে, ৫৩৪ কোটি টাকার এই দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার ওপরই নির্ভর করছে দলের ভবিষ্যৎ ক্ষমতা সমীকরণ।
