বিধানসভায় আলাদা ঘর পেলেন শোভনদেবরা, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে নতুন সমীকরণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী শিবিরের ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার পর, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একাংশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পরেই কুণাল ঘোষ ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা জানিয়েছেন যে, বিধানসভায় তাঁদের জন্য একটি আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে মিলেছে ইতিবাচক আশ্বাস।
হকার উচ্ছেদ ও কর্মী নিরাপত্তায় জোর
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মূলত জনস্বার্থ এবং দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন শোভনদেব-কুণালরা। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, পুনর্বাসন ছাড়া বুলডোজার চালিয়ে কোনো হকার উচ্ছেদ করা হবে না এবং এই বিষয়ে রেলের সঙ্গেও আলোচনা করবে রাজ্য সরকার। দখলদারি হঠানোর কাজ চলবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে। এছাড়াও, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর হামলা এবং বিভিন্ন মামলায় পুলিশের হয়রানি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের সংসদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে অবিলম্বে শোভনদেবদের জন্য একটি আলাদা ঘর বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে বিধানসভায় এই অংশকে আলোচনা ও বিতর্কে অংশ নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও মিলেছে।
বিরোধীদের ফাটল ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের এই বিভাজন রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে বিরোধী দলনেতার আসনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতি, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে শোভনদেব, মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষদের বৈঠক প্রমাণ করছে যে বিরোধী দল এখন কার্যত দুটি ভিন্ন মেরুতে বিভক্ত। কুণাল ঘোষের মন্তব্য, তাঁরা গঠনমূলক বিরোধিতা করবেন এবং পিছনের দরজা দিয়ে চেয়ার দখলের আত্মসম্মানহীন রাজনীতি তাঁরা করেন না। এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত ঋতব্রত শিবিরকেই আক্রমণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্রুত পদক্ষেপ ও দাবি পূরণের আশ্বাস বিরোধী দলের অন্দরের ফাটলকে আরও চওড়া করার পাশাপাশি, বিধানসভার ভিতরে সরকারের পথ চলাকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা মসৃণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
