দার্জিলিং পাহাড়ে ২৫ জুন পর্যন্ত অতিবৃষ্টির দুর্যোগ, ভিজবে দক্ষিণবঙ্গও! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আবহাওয়ার এক বড়সড় বদল ঘটেছে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় একটানা ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। এই অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একাধিক রাস্তায় ইতিমধ্যে ধস নামতে শুরু করেছে, যা পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে বড় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
দীর্ঘদিন তীব্র গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে। কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে গতকাল বিকেল থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে এবং আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’দিন দক্ষিণের কিছু জেলায় গরমের ভাব বজায় থাকলেও শনি ও রবিবার থেকে প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং নদিয়া জেলায় বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। এর পাশাপাশি এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুর্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
উত্তরবঙ্গে সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে এই লাগাতার বৃষ্টিপাত ঘটছে। পাহাড়ে একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে ধস নেমে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পর্যটন শিল্পে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে এতদিন ধরে চলতে থাকা বৃষ্টির ঘাটতি এই বর্ষণের ফলে অনেকটাই মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বৃষ্টির সময় ঘরের বাইরে যাতায়াতে ছাতা ব্যবহারের পাশাপাশি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ রয়েছে।
