জেলেই থাকতে হচ্ছে সুজিত বসুকে! পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টেও ধাক্কা প্রাক্তন মন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও বড় বিপাকে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। কলকাতা হাইকোর্টেও মিলল না স্বস্তি, আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। সোমবার এই মামলার শুনানিতে প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত ইডি-কে তাদের লিখিত বক্তব্য পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে।
গত ১১ মে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতারির পর থেকেই শ্রীঘরে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এরপরই জামিন চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
গ্রেফতারির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সিংভির:
এদিন আদালতে সুজিত বসুর পক্ষে সওয়াল করেন দেশের প্রখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। ইডির গ্রেফতারির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “২০২৩ সালে ইডি এই মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরে তদন্তের স্বার্থে সুজিত বসুকে একবারের জন্যও ডাকা হয়নি। মে মাসে তাঁকে দু’বার তলব করা হয় এবং দ্বিতীয় বার হাজিরার দিনই (১১ মে) গ্রেফতার করা হয়। একজন জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে এই আচমকা গ্রেফতারির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে।”
আদালতের কড়া নির্দেশ:
পাল্টা ইডির আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী সুজিত বসুর জামিনের বিরোধিতা করেন এবং আদালতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য কিছুটা সময় চান। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ইডির এই আবেদন মঞ্জুর করে নির্দেশ দেন, আগামী ২৯ জুনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তাদের লিখিত বক্তব্য বা হলফনামা জমা দিতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১ জুলাই। ফলে অন্তত সেই দিন পর্যন্ত প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীর ঠিকানা যে কারাগারই থাকছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
