জ্বালানির দামে কি আগুন লাগবে, বড় ইঙ্গিত দিলেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী

দীর্ঘ চার বছর দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জোরালো ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানান যে, দেশে জ্বালানির দাম বাড়বে না এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অনিশ্চয়তার কারণেই এমন আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও দেশে এই মুহূর্তে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
বৈশ্বিক সংকট ও ভারতের প্রস্তুতি
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার এলপিজি উৎপাদন দৈনিক ৩৫-৩৬ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার টন করেছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের এই মুহূর্তে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি এবং ৪৫ দিনের এলপিজি মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর হলেও মার্কিন-ইরান উত্তেজনার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা ও প্রভাব
সরকারি তেল সংস্থাগুলো (ওএমসি) বর্তমানে পুরনো দামেই জ্বালানি বিক্রি করছে, যার ফলে তাদের দৈনিক প্রায় এক হাজার কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। প্রতি মাসে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল লোকসান সামাল দিতে ১৫ মে-র আগেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের কারণে দাম বাড়ানো স্থগিত রাখা হয়েছে—এমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন যে মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং সরবরাহ চেইনের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
