টলিপাড়ায় পালাবদলের হাওয়া, ইমপা সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল স্টুডিওপাড়া!

টলিপাড়ায় পালাবদলের হাওয়া, ইমপা সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল স্টুডিওপাড়া!

বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টলিপাড়ার ক্ষমতার অলিন্দে। ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা ইমপা-র বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগ দাবি করে সরব হলেন প্রযোজকদের একাংশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইমপা অফিসে কার্যত নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে বিক্ষোভকারী প্রযোজকরা সংগঠনের কার্যালয় গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধ’ করার পাশাপাশি ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও দেন।

স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ

বিক্ষোভকারী প্রযোজকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইমপা-তে একাধিপত্য কায়েম করা হয়েছে। পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো, তিনি ফেডারেশন অফ সিনেমা টেকনিশিয়ানস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার (FCTWEI) সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে সাধারণ প্রযোজকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছেন। এ ছাড়া, মাল্টিপ্লেক্সে ছবি চালানোর বিনিময়ে নিজের ছেলে বনি সেনগুপ্তকে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং সিনেমার এনওসি (NOC) দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রযোজক প্রবীর ভৌমিক ও পরিবেশক শতদীপ সাহারা। তাঁদের দাবি, ইমপা-কে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করতে হবে।

সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বিক্ষোভের ফলে টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণগুলো দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। পিয়া সেনগুপ্তের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন প্রযোজকরা। অভিযোগ অস্বীকার করে পিয়া সেনগুপ্ত বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখলেও, স্টুডিওপাড়ার সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ এখন চরম পর্যায়ে। বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠনের ভেতরে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ছবি মুক্তি, শুটিংয়ের অনুমতি এবং টলিউডের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কাঠামোয় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে ইমপা-র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও কর্মপন্থা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *