কালীঘাটে কাটল কড়া নজরদারি, মমতা ও অভিষেকের বাড়ি থেকে সরল বাড়তি নিরাপত্তার বহর!

কালীঘাটে কাটল কড়া নজরদারি, মমতা ও অভিষেকের বাড়ি থেকে সরল বাড়তি নিরাপত্তার বহর!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই এক বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলের সাক্ষী থাকল কলকাতা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ও ক্যামাক স্ট্রিট চত্বরের বাড়তি নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার ভোর থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও অফিসের সামনে থেকে পুলিশের বিশাল বাহিনীকে বিদায় নিতে দেখা যায়।

উঠে গেল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়

লালবাজারের নির্দেশ অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা—১৮৮এ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, ৯ ক্যামাক স্ট্রিট এবং ১২১ কালীঘাট রোড থেকে অতিরিক্ত সমস্ত বাহিনী পাকাপাকিভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতদিন নির্ধারিত ‘জেড প্লাস’ প্রোটোকলের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি পুলিশি ঘেরাটোপে থাকতেন এই দুই শীর্ষ নেতা। বর্তমানে পুলিশের অস্থায়ী কিয়স্কগুলো জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং তল্পিতল্পা গুটিয়ে বিদায় নিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মীরা।

প্রোটোকল মেনে ন্যূনতম ব্যবস্থা

তবে পুরোপুরি নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়নি। সরকারি প্রোটোকল মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যতটুকু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, সেটুকুই বহাল রাখা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় পুলিশি মোতায়েন বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

স্বস্তিতে আমজনতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ বছর পর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোড চত্বর। কড়া নজরদারি ও যাতায়াতের বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তাগুলো এখন উন্মুক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যেমন প্রশাসনিক ব্যয় ও পুলিশি ব্যস্ততা কমাবে, তেমনই এটি রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক বড় প্রতীকী বার্তা বহন করছে। এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াতের এই অবাধ স্বাধীনতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *