“উনি শাড়ি পরা ডোনাল্ড ট্রাম্প!” মমতার ইস্তফা বিতর্কে দিলীপের চরম খোঁচা, ২ দিনেই কি কাটবে ক্ষমতার নেশা?

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে পদ্মশিবিরের জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা দিতে অস্বীকার করায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই ইস্যুতে আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে তিনি মন্তব্য করেন, “উনি শাড়ি পরা ট্রাম্প, দুই দিন পর ক্ষমতার নেশা কেটে যাবে।”
ক্ষমতার নেশা ও জনম্যান্ডেট অবমাননার অভিযোগ
দিলীপ ঘোষের মতে, জনতা তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই রায় মেনে নিতে পারছেন না। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প যেভাবে পরাজয় মেনে নিতে চাননি, মমতাও ঠিক একই পথে হাঁটছেন। আদালত, নির্বাচন কমিশন এবং আমজনতা—সবার বিরুদ্ধেই মুখ্যমন্ত্রী অনাস্থা প্রকাশ করছেন যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক। দিলীপের হুঁশিয়ারি, পরাজয় আড়াল করতে কারচুপির অভিযোগ তুললেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে কালীঘাটেই ফিরে যেতে হবে।
সাংবিধানিক সংকট ও রাজ্যপালের হাতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দিলে রাজ্যে চরম সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে শেষ হচ্ছে, ফলে নিয়ম অনুযায়ী এর পর তাঁর আর পদে থাকার আইনি বৈধতা নেই। মুখ্যমন্ত্রী নিজের অবস্থানে অনড় থাকলে রাজ্যপাল সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী তাঁকে বরখাস্ত করতে পারেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হলে রাজ্যপাল বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন অথবা সংবিধানে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করার ক্ষমতাও রাখেন। বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত করতে পারে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাবে।
