টেকনিশিয়ানদের বকেয়া আটকে রাখলেই ‘ব্ল্যাকলিস্ট’! টলিউডে কড়া নিয়মে চালু হচ্ছে নতুন ফিল্ম পলিসি – এবেলা

টেকনিশিয়ানদের বকেয়া আটকে রাখলেই ‘ব্ল্যাকলিস্ট’! টলিউডে কড়া নিয়মে চালু হচ্ছে নতুন ফিল্ম পলিসি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও সুসংগঠিত, নিরাপদ এবং পরিচ্ছন্ন রূপ দিতে ঐতিহাসিক পদক্ষপে নিল রাজ্য সরকার। টেকনিশিয়ানদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা, বকেয়া পারিশ্রমিক মেটানো এবং দ্রুত শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্যে আনা হচ্ছে ‘West Bengal Film & Shooting Policy’। গোটা ব্যবস্থাটি সহজ করতে সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার জন্য তৈরি হচ্ছে ‘Single Window Clearance System’। রাজ্য সরকারের এই ১৮ দফা নীতি টলিউডের চেনা ছবি বদলে দিতে চলেছে।

টেকনিশিয়ানদের বকেয়া মেটাতে কড়া দাওয়াই দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক না পাওয়া বা বকেয়া আটকে রাখার যে অভিযোগ উঠছিল, তা বন্ধ করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হচ্ছে।

  • কোনো প্রযোজক বা লাইন প্রোডিউসার টেকনিশিয়ানদের বকেয়া না মেটালে বা প্রাপ্য কম দিলে তাঁদের ভবিষ্যতে কাজের জন্য সরাসরি ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।
  • প্রযোজক ও প্রোডাকশন হাউসের পেশাদারি বজায় রাখতে তৈরি হচ্ছে নির্দিষ্ট SOP (Standard Operating Procedure)।
  • রাতের শুটিং শেষে টেকনিশিয়ানদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার পরিবহণ খরচ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
  • শুটিং ফ্লোরে হয়রানি প্রতিরোধ এবং সম্মানের সাথে কাজের পরিবেশ তৈরি করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

এক ক্লিকেই শুটিংয়ের অনুমতি ও ডিজিটাল পরিষেবা অনুমতির জন্য একের পর এক সরকারি দফতরে দৌড়ঝাঁপের দিন শেষ হতে চলেছে।

  • কেন্দ্রের ‘WAVES’ এবং রাজ্যের ‘শিল্প সাথী’ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে চালু হচ্ছে ডিজিটাল ‘Single Window System’
  • টেকনিশিয়ানদের সঠিক রেকর্ড রাখতে তৈরি হবে ‘Digital Manpower Database’
  • গিল্ডের বিভিন্ন সমস্যা মেটাতে ও পরিষেবা সহজে পৌঁছাতে আসছে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ।

আন্তর্জাতিক প্রচার ও সামাজিক সুরক্ষা শুধু শুটিংয়ের নিয়মেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এই পরিবর্তন। বিশ্বমঞ্চে বাংলা চলচ্চিত্রকে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিচ্ছে তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ। এর পাশাপাশি, নবীন ও স্বাধীন (Independent) নির্মাতারা যাতে সহজেই কাজের পরিকাঠামো পান, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলো—টেকনিশিয়ানদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং ‘স্বাস্থ্যবিমা’র আওতায় আনার প্রক্রিয়া গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে রাজ্য।

পুরো ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে কাজের সমন্বয় বজায় রাখতে একটি পৃথক ‘Producers’ Association’ গঠনের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস পর এই পুরো ব্যবস্থার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সিদ্ধান্ত যোগ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *