ডিজিটাল লকড ‘গুপ্ত ঘর’! অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপের ফ্ল্যাটে চাবিওয়ালা ডেকে দরজা ভাঙল পুলিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ফ্ল্যাটের গোপন কুঠুরিতে কিসের রহস্য, স্বরূপের ‘গুপ্ত ঘরে’ চোখ কপালে পুলিশের!
নিউ আলিপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর ছোট ভাই তথা টলিপাড়ার একসময়ের দাপুটে নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপকে নিয়ে সোমবার সকাল থেকেই সাহাপুর কলোনির ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযানে নামে পুলিশ। আর সেই তল্লাশি চলাকালীনই ফ্ল্যাটের চারতলায় হদিশ মেলে একটি ‘গুপ্ত ঘর’-এর, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র রহস্য ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, চারতলার ওই নির্দিষ্ট ঘরটি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল এবং তাতে একটি আধুনিক ডিজিটাল লক লাগানো ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ তড়িঘড়ি দুজন চাবিওয়ালাকে ডেকে এনে সেই তালা ভাঙার ব্যবস্থা করে। তবে সেই অত্যন্ত সুরক্ষিত গোপন কুঠুরির ভেতরে ঠিক কী লুকিয়ে রাখা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্টভাবে খোলসা করেনি প্রশাসন। কোনো আপত্তিকর নথি, বিপুল অর্থ নাকি অন্য কোনো রহস্য ওই ঘরে চাপা রয়েছে, তা নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও টলিপাড়ার ‘থ্রেট কালচার’
একসময় টলিপাড়ার অলিখিত ‘সর্বেসর্বা’ হয়ে উঠেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে স্টুডিও পাড়ায় নিজস্ব একনায়কতন্ত্র চালানো, ‘ব্যান কালচার’ বা শিল্পীদের কাজ কেড়ে নেওয়া এবং ভয়ের পরিবেশ বা ‘থ্রেট কালচার’ তৈরি করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক মেক-আপ আর্টিস্টকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং ব্যবসায়ীদের থেকে তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই গ্রেফতারির পরই টলিপাড়ার অন্দরে ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের বাঁধ ভাঙে, এমনকি থানার বাইরেও তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে।
তল্লাশি অভিযান ও সম্ভাব্য প্রভাব
সোমবার স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়েই সাহাপুর কলোনির ফ্ল্যাটে পৌঁছায় তদন্তকারী দল। সেখানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ‘গুপ্ত ঘর’ আবিষ্কারের ফলে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চলা মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যেতে পারে। উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং টলিপাড়ায় প্রভাব খাটানোর নেপথ্যে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামও সামনে আসার সম্ভাবনা প্রবল। একইসঙ্গে এই ঘটনা শাসক শিবিরের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়াবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
