ডিভোর্স অ্যাগ্রিমেন্টের পর ইউ-টার্ন নয়, আইনি অবস্থান স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট!

পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ: চুক্তির পর মত বদলানো যাবে না, কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদের চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর কোনো পক্ষই পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারবে না। বিচারপতি রাজীব বিন্দল ও বিচারপতি বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের মতে, আদালতের মাধ্যমে হওয়া মধ্যস্থতাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি বিশ্লেষণ
দিল্লির এক দম্পতির মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি তুলে ধরে। ২০০০ সালে বিবাহিত ওই দম্পতির দীর্ঘ কুড়ি বছরের দাম্পত্য জীবনের পর সম্পর্কে ফাটল ধরে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেন। পারিবারিক আদালতে বিষয়টি মধ্যস্থতায় গড়ালেও, পরবর্তী পর্যায়ে স্ত্রী তার সম্মতি প্রত্যাহার করেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায় পৌঁছায়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, বিচ্ছেদের ডিক্রি জারি হওয়ার আগে সম্মতি প্রত্যাহারের সুযোগ থাকলেও, একবার দুই পক্ষ চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেলে সেখান থেকে পিছিয়ে আসা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি না প্রমাণ করা যায় যে—
- চুক্তির সময় কোনো পক্ষকে প্রতারণা করা হয়েছে।
- চুক্তিটি জবরদস্তি বা চাপের মুখে তৈরি করা হয়েছে।
- অপর পক্ষ চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ করেছে।
এই নির্দিষ্ট কারণগুলো ছাড়া যদি কেউ অযৌক্তিকভাবে চুক্তি থেকে সরে আসতে চায়, তবে তা আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট এবং বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে। আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর ওপর বড় ধরনের জরিমানাও ধার্য করা হতে পারে। বর্তমান মামলাটির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, শুধুমাত্র আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত বা বাধাগ্রস্ত করতেই গার্হস্থ্য হিংসার মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তাই আদালত আগের সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে।
কেন এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ?
দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক আদালতগুলোতে বিচ্ছেদের মধ্যস্থতা সফল হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে মত পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। যা বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস কমিয়ে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে অহেতুক আইনি লড়াই কমবে এবং মধ্যস্থতার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি পারিবারিক বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে আইনজ্ঞ মহল।
এক ঝলকে
- পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদের চুক্তি স্বাক্ষর করার পর মত পরিবর্তন করা যাবে না।
- বিশেষ পরিস্থিতির প্রমাণ ছাড়া এই চুক্তি থেকে সরে আসা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- প্রতারণা বা জবরদস্তির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীর ওপর জরিমানা হতে পারে।
- আদালতের মাধ্যমে হওয়া মধ্যস্থতাকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- দিল্লির ওই দম্পতির মামলায় নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল রেখে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
