ডিসেম্বরেই কলকাতার মসনদে নতুন বোর্ড, ভোটের দামামা বাজিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুরভোটের স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরসভার স্বচ্ছতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ছ’মাসের মধ্যেই তিলোত্তমার পুর নির্বাচন সম্পন্ন হবে। শুধু তাই নয়, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় নবনির্বাচিত বোর্ড গঠন করার ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ঘোষণা কলকাতার শাসনক্ষমতা দখলের লড়াইকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
অচলাবস্থা থেকে বোর্ড ভাঙার নেপথ্য কারণ
কলকাতা পুরসভার বর্তমান মেয়াদের সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও, সম্প্রতি মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা পুরো সমীকরণ বদলে দেয়। ২০২১ সালের নির্বাচনে ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৭টিতে জিতে তৃণমূল বোর্ড গঠন করলেও, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই সেখানে চরম ফাটল দেখা দেয়। একাধিক কাউন্সিলরের গ্রেফতারি এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার অভিযোগ তুলে শাসকদলে ভাঙন ধরে। ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলেও পুরসভার পক্ষ থেকে কোনো নাম জমা দেওয়া হয়নি। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অচলাবস্থার জেরেই শেষ পর্যন্ত পুরবোর্ড ভেঙে দিয়ে কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করে রাজ্য সরকার।
তিলোত্তমার রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক ঘোষণার ফলে কলকাতার রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরে ভোটের প্রস্তুতি এখন সময়ের চেয়ে এগিয়ে শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদের তোলা ‘ছাপ্পা ও রিগিং’-এর অভিযোগের পর, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিতে চলেছে। একদিকে ভাঙনের মুখে পড়া প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের কাছে এই নির্বাচন হবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মরণপণ লড়াই। অন্যদিকে, নতুন শাসক শিবিরের লক্ষ্য থাকবে পুরসভার রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে কলকাতার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মজবুত করা। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রশাসক দিয়ে কাজ চালানো হলেও, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠনের এই তৎপরতা শহরের নাগরিক পরিষেবা ও সামগ্রিক উন্নয়নে এক নতুন গতিশীলতা আনবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
