তামিলনাড়ুর কুর্সিতে ‘থলপতি’, বিজয়ের সংগ্রামের দিনগুলো মনে করে আবেগপ্রবণ বাবা চন্দ্রশেখর

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন সি জোসেফ বিজয়। প্রথমবার নির্বাচনে লড়েই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন তিনি। ছেলের এই অভাবনীয় সাফল্যে আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত বিজয়ের বাবা, প্রখ্যাত পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি পরিবারের সেই পুরনো দিনগুলোর কথা তুলে ধরেছেন, যা আজকের সাফল্যের ঠিক বিপরীত মেরুতে ছিল।
খাবারের অভাব ও শৈশবের লড়াই
বিজয়ের বাবা জানান, আজকের এই জৌলুস বা ক্ষমতা একদিনে আসেনি। তাঁদের জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত কঠিন এবং দারিদ্র্যপীড়িত। চন্দ্রশেখর বলেন, “আমাদের জীবন একসময় এতটাই কষ্টের ছিল যে, দু-বেলা খাবারের জোগাড় করতেও চরম লড়াই করতে হয়েছে।” অতি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে এই সংগ্রামই বিজয়কে মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার শক্তি দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
বাবার স্বপ্ন ও ছেলের সাফল্য
সেই কঠিন দিনগুলোতেও চন্দ্রশেখর হাল ছাড়েননি। তিনি মনে মনে স্বপ্ন দেখতেন, তাঁর ছেলে একদিন অনেক বড় মানুষ হবে এবং সমাজ ও মানুষের জন্য কিছু করবে। আজ বিজয় তামিলনাড়ুর মসনদে বসার পর চন্দ্রশেখরের দাবি, তাঁর সেই লালিত স্বপ্ন আজ সার্থক হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, যে অভাবের মধ্য দিয়ে বিজয় বড় হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থান
সিনেমা জগৎ থেকে সরাসরি প্রশাসনিক শীর্ষ পদে বিজয়ের এই উত্তরণ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। নেটিজেন এবং সাধারণ মানুষের মতে, মাটির কাছাকাছি থেকে লড়াই করে আসা একজন মানুষই জানেন সাধারণের আসল সমস্যাগুলো ঠিক কোথায়। বিজয়ের বাবার এই বয়ান প্রমাণ করে যে, ‘থলপতি’র এই বিজয় আসলে বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং ত্যাগের ফসল। মূলত সংগ্রামের পথ বেয়েই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন দক্ষিণী এই সুপারস্টার।
