তিন দিনের সফরে চিন যাচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, লক্ষ্য বাণিজ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা

এক দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে তিন দিনের সফরে চিন যাচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ১৩ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত বেজিংয়ে তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই শক্তিধর দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক টানাপড়েন মিটিয়ে সম্পর্কের এক নতুন যুগের সূচনা করা। এই সফরটিকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘tremendous symbolic significance’ বা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক যুদ্ধ ও ট্যারিফ সংঘাতের প্রেক্ষাপট
গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে যে তীব্র বাণিজ্যিক লড়াই চলছিল, তার রেশ কাটতেই এই বৈঠকের আয়োজন। উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প চিনা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ১৪৫ শতাংশ করেছিলেন। এর পাল্টা জবাব হিসেবে চিনও বসে থাকেনি; তারাও আমেরিকান পণ্যের ট্যারিফ ৮৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশে নিয়ে গিয়েছিল। এই উচ্চ শুল্ক হারের ফলে দুই দেশেরই অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আলোচনার টেবিল প্রস্তুত হয়েছে।
ট্রাম্পের লক্ষ্য: অর্থনৈতিক শক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সফরের নেপথ্যে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে:
- অর্থনৈতিক মজবুতি: আমেরিকার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক ঘাটতি কমিয়ে অর্থনৈতিক শক্তিকে আরও সুসংহত করা।
- জাতীয় নিরাপত্তা: প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
- নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি: বিমান পরিবহন (বোয়িং), কৃষি এবং শক্তি খাতে চিনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি আদায় করা।
বেজিংয়ের কর্মসূচি ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে বাণিজ্য ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এআই (AI) প্রযুক্তির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া দুই রাষ্ট্রপ্রধান একসঙ্গে ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অফ হেভেন’ পরিদর্শন করবেন এবং একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত ৯ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিন সফর বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে। ট্রাম্প চাইছেন তাঁর ‘রিসিপ্রোসিটি অ্যান্ড ফেয়ারনেস’ নীতির মাধ্যমে আমেরিকানদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং চিনের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল বাণিজ্যিক কাঠামো গড়ে তুলতে। মূলত বাণিজ্যিক সংঘাত কমিয়ে সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়াই এখন ওয়াশিংটন ও বেজিং—উভয় পক্ষেরই কাম্য।
