তারাতলায় ভয়াবহ বিপর্যয়! ‘হঠাৎ কেঁপে উঠল, তারপরই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ছাদ’, আতঙ্কের বর্ণনা প্রত্যক্ষদর্শীর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা। কলকাতার তারাতলায় তখন পুরোদমে চলছে এক নির্মীয়মাণ গোডাউনের কাজ। আচমকাই ছন্দপতন! চোখের সামনে তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল আস্ত একটি চারতলা স্ট্রাকচার, আর ভেতরে আটকে পড়লেন বহু শ্রমিক। কিন্তু দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে কী হয়েছিল? সেই শিউরে ওঠার মতো অভিজ্ঞতাই জানালেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
কী দেখেছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী?
ঘটনাস্থলের পাশেই ছিলেন প্রতীক পাণ্ডে নামে এক ব্যক্তি। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ওই জায়গায় একটি চারতলা গোডাউন তৈরির কাজ চলছিল। লোহার স্ট্রাকচারের ওপর ঢালাই হচ্ছিল। প্রথমে চারতলা, তারপর তিনতলা এবং শেষে দোতলায় কাজ চলছিল।
প্রতীকের কথায়, “যাঁরা কাজ করছিলেন, তাঁরা ভেতরেই ছিলেন। আচমকা তাঁরা বুঝতে পারেন, স্ট্রাকচারটা একটু নড়ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, কাজ চলার মাঝেই পুরো কাঠামোটা হুড়মুড়িয়ে বসে যায়।”
উদ্ধারকাজ ও আর্তনাদ:
দুর্ঘটনা ঘটার মিনিট দশেকের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রতীক-সহ জনা পঁচিশেক মানুষ। এরপরই ধীরে ধীরে ভিড় বাড়তে থাকে। ধ্বংসস্তূপের বিশাল এলাকার নিচ থেকে ভেসে আসতে থাকে আটকে পড়া শ্রমিক এবং মহিলাদের বাঁচার আর্তনাদ।
- আটকে পড়াদের পাইপের মাধ্যমে জল ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে পুলিশ, প্রশাসন এবং সেনার বিশেষ দল।
- আহতদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কার এই নির্মাণ?
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, প্রায় ১ লক্ষ বর্গফুট বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি হচ্ছিল এই গোডাউন। তবে এটি কোনও বেআইনি নির্মাণ নয়। পোর্টের লিজ নেওয়া জমিতে এই নির্মাণকাজ চলছিল। শম্ভু বেরা নামের এক চা-ব্যবসায়ী এক কন্ট্রাক্টরকে এই গোডাউন তৈরির বরাত দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তবে মূল কন্ট্রাক্টর কে ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
