রাম মন্দিরের অনুদানে ৩,৫০০ কোটির ডাহা গরমিল! প্রকাশ্যে ২০২০ সালের বিস্ফোরক অডিট রিপোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অযোধ্যা: রাম মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র’ ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এবার মারাত্মক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠল। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে জমা পড়া সোনা, হিরে ও নগদ অর্থ মিলিয়ে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকার অনুদানের হিসাবে বিশাল গরমিল প্রকাশ্যে এসেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চরম গাফিলতি ও কেলেঙ্কারির পূর্বাভাস মিলেছিল ২০২০ সালের একটি গোপন অডিট রিপোর্টেই!
কী ছিল সেই বিস্ফোরক অডিট রিপোর্টে? ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর গঠিত এই ট্রাস্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই “অত্যন্ত অপেশাদার” ও “ত্রুটিপূর্ণ” বলে আখ্যা দিয়েছিল একটি নামী বেসরকারি অডিট সংস্থা। তাদের রিপোর্টে উঠে এসেছিল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য:
- নথিপত্রের অভাব: কোটি কোটি টাকার নগদ অনুদান এবং গয়না এলেও তার কোনো “পদ্ধতিগত রেকর্ড” বা প্রোপার ‘স্টক রেজিস্টার’ ট্রাস্টের কাছে ছিল না।
- সুরক্ষায় গাফিলতি: ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন বা ডেটা এন্ট্রির ক্ষেত্রে কোনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের পুনর্যাচাইয়ের (Re-verification) ব্যবস্থা ছিল না। ফলে তথ্য গোপন ও নয়ছয়ের রাস্তা খোলা ছিল।
- পরিকাঠামোহীনতা: হাজার হাজার কর্মী থাকলেও ট্রাস্টের কোনো নির্দিষ্ট মানবসম্পদ (HR) বিভাগ ছিল না। ব্যাঙ্কের হিসাব মেলানোর জন্য উপযুক্ত ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম’ (MIS) বা তথ্য সুরক্ষার (Data Security) কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি।
সতর্কতা উপেক্ষার মাসুল, তদন্তে ‘সিট’ (SIT): অডিট সংস্থাটি আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) তৈরির জোরালো সুপারিশ করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘ ৬ বছরেও ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ তার একটিও কার্যকর করেনি।
সতর্কতা উপেক্ষার ফলস্বরূপ আজ ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান নয়ছয়ের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে ট্রাস্টের বিরুদ্ধে। এই বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তাদের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এই গাফিলতির জেরে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং অন্যান্য হিসাবরক্ষকদের ভূমিকা এখন কড়া আতসকাঁচের তলায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম থেকেই অডিট রিপোর্টের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিলে আজ এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানকে এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো না।
