তিন তালাকের পর কি এবার বহুবিবাহ নিষিদ্ধ? সুপ্রিম কোর্টে বড় আর্জি, কেন্দ্রের মতামত তলব! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: তিন তালাক বাতিলের পর এবার কি ভারতে মুসলিমদের মধ্যে বহুবিবাহ (Polygamy) প্রথাও বন্ধ হতে চলেছে? একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি দেওয়া ‘মুসলিম পার্সোনাল ল’-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ৫ জন আবেদনকারী। এই গুরুত্বপূণ আর্জির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব তলব করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।
ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলন (BMMA)-এর জাকিীয় সোমান ও নূরজাহান সাফিয়া নিয়াজ সহ ৫ জন যৌথভাবে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন। উল্লেখ্য, জাকিয়া সোমান ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক ‘তিন তালাক’ মামলারও অন্যতম আবেদনকারী ছিলেন।
আবেদনকারীদের মূল দাবি ও যুক্তি:
- সমতার অধিকার হরণ: আবেদনকারীদের বক্তব্য, ১৯৩৭ সালের ‘মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট’-এর ২ নম্বর ধারা সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া লিঙ্গসাম্য ও সমতার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে।
- অন্য ধর্মে এটি অপরাধ: ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৮২ ধারা অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে করা ফৌজদারি অপরাধ (যার শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড)। তবে এই নিয়ম কেবল অ-মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা বৈষম্যমূলক।
- বিবাহের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন: আবেদনকারীরা দাবি করেছেন যে, রাজ্য সরকারের অধীনে মুসলিম বিয়ের আইনি নথিভুক্তকরণ (Registration) বাধ্যতামূলক করা হোক, যাতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকানো যায়।
- কোরানের অনুশাসন: মামলায় কোরানের ‘সুরাহ আন নিসা’-র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ইসলামে বহুবিবাহকে কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় কর্তব্য বলা হয়নি। কোরানে স্পষ্ট বলা আছে, স্ত্রীদের মধ্যে পূর্ণ ন্যায়বিচার ও সমতা বজায় রাখা সম্ভব না হলে একাধিক বিয়ে করা অনুচিত।
আইনি প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপ:
২০১৭ সালে তাৎক্ষণিক তিন তালাক অসাংবিধানিক ঘোষিত হলেও, বহুবিবাহ এবং ‘নিকাহ হালালা’-র মতো বিষয়গুলিতে সেই সময় সিদ্ধান্ত স্থগিত ছিল। প্রায় ৯ বছর পর ফের এই বিতর্ক আদালতের টেবিলে এল।
আদালত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্য বহুবিবাহ বন্ধ করতে আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা যায় কি না, তা স্পষ্ট করতে। এই মামলায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) এবং জাতীয় মহিলা কমিশনকেও (NCW) পক্ষ করা হয়েছে।
