তিন তিনবার জাহাজডুবি থেকেও বেঁচে ফেরা, অবাক করবে ‘মিস আনসিঙ্কেবল’ ভায়োলেট জেসপের অবিশ্বাস্য কাহিনি! – এবেলা

তিন তিনবার জাহাজডুবি থেকেও বেঁচে ফেরা, অবাক করবে ‘মিস আনসিঙ্কেবল’ ভায়োলেট জেসপের অবিশ্বাস্য কাহিনি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইতিহাসের পাতায় জাহাজডুবির ট্র্যাজেডি বললেই সবার আগে ভেসে ওঠে টাইটানিকের নাম। হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। কিন্তু এই চরম মৃত্যুর উপত্যকা থেকেও যিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন, তিনি হলেন ভায়োলেট জেসপ। পেশায় জাহাজের পরিচারিকা ও নার্স ভায়োলেট কেবল টাইটানিকই নয়, তাঁর কর্মজীবনে মোট তিন-তিনটি ভয়াবহ সামুদ্রিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েও প্রতিবার অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফেরেন। এই অবিশ্বাস্য টিকে থাকার লড়াইয়ের কারণে ইতিহাস তাঁকে ‘মিস আনসিঙ্কেবল’ বা ‘যিনি কখনও ডোবেন না’ নামে স্মরণ করে।

১৮৮৭ সালে আর্জেন্টিনায় আইরিশ পরিবারে জন্ম নেওয়া ভায়োলেট কেরিয়ার গড়ার টানে চলে আসেন ব্রিটেনে। বিশ শতকের শুরুতে আটলান্টিক মহাসাগরে বিলাসবহুল জাহাজের রমরমা শুরু হলে বিপুল আয় ও স্বাধীনতার আকর্ষণে তিনি জাহাজের ক্রু হিসেবে কাজ শুরু করেন। আর এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর রোমাঞ্চকর ও বিপজ্জনক এক অধ্যায়।

অলিম্পিক থেকে টাইটানিক, মৃত্যুর মুখ থেকে বারবার ফেরা

ভায়োলেটের প্রথম বিপর্যয় ঘটে ১৯১১ সালে, যখন তিনি ‘আরএমএস অলিম্পিক’ জাহাজে কর্মরত ছিলেন। একটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে অলিম্পিক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেবার জাহাজটি ডুবেনি এবং ভায়োলেট সুরক্ষিত থাকেন। এই ঘটনার ঠিক পরের বছর, ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল তিনি ক্রু সদস্য হিসেবে যোগ দেন ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত জাহাজ ‘টাইটানিক’-এ। যাত্রা শুরুর চার দিন পর উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে হিমশৈলের ধাক্কায় যখন টাইটানিক ডুবতে শুরু করে, তখন ভায়োলেট অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেন। অ-ইংরেজিভাষী যাত্রীদের শান্ত করে লাইফবোটে তুলতে সাহায্য করার পর নিজে শেষ মুহূর্তে ১৬ নম্বর লাইফবোটে চড়ে রক্ষা পান।

টানা তিন বিপর্যয় ও ‘মিস আনসিঙ্কেবল’ হয়ে ওঠা

দুটি বড় দুর্ঘটনার পরও ভায়োলেটের মনোবল ভাঙেনি। চার বছর পর ১৯১৬ সালে তিনি টাইটানিকের ‘সিস্টার শিপ’ হিসেবে পরিচিত ‘এইচএমএইচএস ব্রিটানিক’ জাহাজে নার্স হিসেবে যোগ দেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এজিয়ান সাগরে মাইন বিস্ফোরণে এই জাহাজটিও ডুবতে শুরু করে। এবার জীবন বাঁচাতে লাইফবোটে উঠলেও সেটি জাহাজের প্রপেলারে আটকে যায়। চরম মুহূর্তে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি।

টানা তিনটি বড় সামুদ্রিক বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফেরার এই বিরল ও অবিশ্বাস্য ঘটনার কারণেই বিশ্বজুড়ে তাঁর নাম হয়ে যায় ‘মিস আনসিঙ্কেবল’। এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক প্রভাব কাটিয়েও তিনি দীর্ঘ ৪২ বছর জাহাজের পেশায় যুক্ত ছিলেন। ১৯五十 সালে অবসর নেওয়ার পর নিজের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি স্মৃতিকথাও লেখেন তিনি। ১৯৭১ সালে ৮৩ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইতিহাসের এই অদম্য নারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *