তীব্র গরমে হঠাৎ নাক দিয়ে রক্তপাত কেন হয় এবং বিপদ এড়াতে করণীয় কী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রবল দাবদাহ ও শুষ্ক বাতাসের প্রভাবে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে। এই গরমে অনেকেরই হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘এপিস্ট্যাক্সিস’ বা সাধারণ ভাষায় ‘নকসির’ বলা হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় নাকের ভেতরেরদিকের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়ার কারণেই মূলত এই রক্তপাত ঘটে।
রক্তপাতের নেপথ্য কারণ ও লক্ষণ
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডিরেক্টর প্রফেসর ডাঃ সুভাষ গিরি জানিয়েছেন, গ্রীষ্মের শুষ্ক হাওয়া নাকের ভেতরের আর্দ্র ঝিল্লিকে শুকিয়ে দেয়, ফলে রক্তনালিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। রক্তপাতের আগে অনেক সময় নাকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অত্যধিক রোদে ঘোরাঘুরি বা বারবার নাক পরিষ্কার করার ফলেও নালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রক্ত বের হতে পারে।
জরুরি প্রতিকার ও প্রতিরোধ
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা জরুরি। এমন অবস্থায় রোগীকে বসিয়ে মাথা সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখতে হবে এবং নাকের নরম অংশ আঙুল দিয়ে চেপে ধরতে হবে। মাথা পিছনের দিকে হেলিয়ে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে রক্ত গলায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রতিরোধ হিসেবে প্রচুর পরিমাণে জল, লেবুর শরবত ও ঘোল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া তীব্র রোদে বেরোলে মাথা ঢেকে রাখা এবং নাকের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
সম্ভাব্য প্রভাব ও সতর্কতা
সাধারণত এটি বড় কোনো সমস্যা না হলেও বারবার রক্তপাত হওয়া শরীরের অভ্যন্তরীণ জটিলতার সংকেত হতে পারে। সঠিক সময়ে সতর্কতা অবলম্বন না করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। ঘরোয়া উপায়ে রক্ত না কমলে বা ঘনঘন এই সমস্যা ফিরে এলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে রোদে খেলাধুলা কমিয়ে ঠান্ডা ও হাওয়া চলাচল করে এমন স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এক ঝলকে
- তীব্র গরম ও শুষ্ক হাওয়ায় নাকের ঝিল্লি শুকিয়ে রক্তনালি ফেটে রক্তপাত ঘটে।
- রক্ত পড়লে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে নাক চেপে ধরে রাখতে হবে।
- ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর জল ও তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করা জরুরি।
- সমস্যা বারবার দেখা দিলে ঘরোয়া প্রতিকারের আশায় না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
