তৃণমূলের অন্দরে তুমুল ডামাডোল, ঋতব্রতকে তীব্র আক্রমণ করে বিস্ফোরক বাবুল সুপ্রিয় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আদি ও নব তৃণমূলের দ্বন্দ্বে যখন শাসকদলের অন্দরে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এক ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্টে নিজের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নবনিযুক্ত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
দলের অন্দরে আদি ও নব তৃণমূল ব্লক গঠন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাবুল। নাম না করে ঋতব্রতকে ‘ছদ্মবেশী সাপ’ বলে কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, একজন মানুষ তাঁকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের সুসময়ে নিশ্চুপ থেকে দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে ঋতব্রতের এই অবস্থান বদল ও বিভাজন তৈরির নীতিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বাবুল। সেই কারণেই তিনি বিজেপি নেতৃত্বের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন, তারা যেন অন্য রাজ্যের মতো এই নেতাকে দলে টেনে নেওয়ার ভুল না করে।
দলের বিরুদ্ধে অবস্থান ও পদত্যাগের বার্তা
নিজের পোস্টে বাবুল সুপ্রিয় যেমন ঋতব্রতকে খোঁচা দিয়েছেন, তেমনই রাজনীতিতে নৈতিকতার প্রশ্নও তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অধিকার সকলের থাকলেও, সেই অবস্থানকে সম্মান জানাতে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। কারণ প্রত্যেকেই দলের প্রতীক, নেতৃত্ব ও ব্যানারের অধীনে লড়াই করে জয়ী হন। রাজনৈতিক দলে থেকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করা যায় না মেনে নিয়েও, এটিকে নিজের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
নেতৃত্বের ভুল ও দুর্নীতির প্রভাব
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বাবুল দাবি করেন, ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ তছরুপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে দলনেত্রী বড় ভুল করেছিলেন। আজ যারা দলের বিরুদ্ধাচারণ করছে, তাদের অনেকেই সেই দুর্নীতির অংশ। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের প্রতি ক্ষোভ আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
