তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ, দল ছাড়ার হিড়িকের নেপথ্যে কি তবে নতুন সমীকরণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করার স্বপ্ন দেখেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু মেঘালয়, গোয়া বা ত্রিপুরার মতো আসামেও সেই চেষ্টা বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি আসামে তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অভিজিৎ মজুমদারের এক বিস্ফোরক মন্তব্য দলের ভেতরের গভীর ফাটলকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। তাঁর দাবি, দলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ এবং নেতৃত্বের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের কারণেই আজ জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীরা দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
নেতৃত্বের দূরত্ব ও ক্ষোভের কারণ
অভিজিৎ মজুমদারের অভিযোগের মূল তির দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। তাঁর মতে, দলে কাউকে নূন্যতম সম্মান দেওয়া হতো না। এমনকি নির্বাচিত সাংসদ এবং বিধায়করাও দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেতেন না। তৃণমূলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে এবং নিচুতলার কর্মী বা জেলা স্তরের নেতাদের মতামতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হচ্ছে। এই চরম অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার ফলেই দলের অন্দরে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে, যা এখন দলত্যাগের হিড়িকে রূপ নিয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের এই সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ভাঙন জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আসামের প্রাক্তন সভাপতির ইঙ্গিত অনুযায়ী, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী অংশ আগামীদিনে নিজেদের একটি আলাদা রাজনৈতিক সত্তা বা দল গঠন করতে পারে। শুধু তাই নয়, লোকসভা ও বিধানসভা স্তরে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সংগঠন বিস্তারের যে লক্ষ্য তৃণমূল নিয়েছিল, স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব না দিয়ে বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতার কারণে তা কার্যত ব্যর্থতার মুখে দাঁড়িয়েছে।
