তৃণমূলে মহাসংকট! দিল্লিতে শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠক ১৪ সাংসদের, সামনে এল ‘বিদ্রোহী’দের তালিকা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকের মাঝেই তৃণমূলে বিরাট ভাঙনের ইঙ্গিত, স্পিকারের দ্বারস্থ ১৪ বিদ্রোহী সাংসদ!
ইন্ডি জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠকের আবহেই ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার দিল্লিতে যখন সনিয়া গান্ধীর পাশে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোটের রণকৌশল ঠিক করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দলটির ১৪ জন সাংসদ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন বৈঠক সেরে লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই আকস্মিক রাজনৈতিক নাটকীয়তা তৃণমূল শিবিরের অন্দরে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করেছে।
বৈঠকের নেপথ্য কারণ ও সমীকরণ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ একাংশের মধ্যে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডি জোটের বৈঠক চলাকালীনই মতিলাল নেহরু মার্গে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে পৌঁছন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা। জানা গেছে, সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। এই বৈঠকের আগে বিদ্রোহী সাংসদেরা নিজেদের মধ্যেও একটি গোপন আলোচনা সারেন। রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং দলের সমস্ত পদ থেকে সুখেন্দুশেখর রায়ের আকস্মিক ইস্তফা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
তালিকায় হেভিওয়েট নাম ও সম্ভাব্য প্রভাব
সূত্র মারফত জানা গেছে, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তৈরি হয়েছে এবং তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠিও জমা দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী তালিকায় সুখেন্দুশেখর রায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়াও রয়েছেন জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, অরূপ চক্রবর্তী, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, খলিলুর রহমান, শর্মিলা সরকার, কালীপদ সোরেন ও অসিত মালের মতো একাধিক হেভিওয়েট নাম।
এই বিদ্রোহের ফলে দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৪ জন সাংসদের এই দলবদল বা ভিন্ন অবস্থানের সিদ্ধান্ত যদি চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে তা শুধু ইন্ডি জোটেরই ক্ষতি করবে না, বরং বাংলায় তৃণমূলের একক আধিপত্যের ভিতকেও বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে। অন্যদিকে, এর ফলে জাতীয় স্তরে বিরোধী শিবিরের দর কষাকষির ক্ষমতা যেমন কমবে, তেমনই সংসদে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত হতে পারে।
