তেল বাঁচাতে মাস্টারস্ট্রোক! মন্ত্রীদের কনভয় ছেঁটে ছোট করার নির্দেশ, নজির গড়ল গুজরাট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন গুজরাটের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সরকারি প্রতিষ্ঠান। দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষার তাগিদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাটিলসহ প্রফুল্ল পানসেরিয়া ও কান্তি অমৃতিয়ার মতো নেতারা নিজেদের কনভয় ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে তাঁদের সফরের সময় নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত অতিরিক্ত ‘পুলিশ পাইলটিং’ যান আর ব্যবহার করা হবে না।
সরকারি ব্যয় ও জ্বালানি সাশ্রয়
মন্ত্রীদের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কোষাগারে জ্বালানি বাবদ খরচের বোঝা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের প্রাপ্যতা ও বাজারমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় থাকা পর্যন্ত তাঁরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা পাইলট কার ছাড়াই সাধারণের মতো যাতায়াত করবেন। ‘জ্বালানি বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’—এই সংকল্পকে সামনে রেখে গুজরাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বাধ্যতামূলক কার পুলিং
রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। গুজরাট ইউনিভার্সিটি তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। এই সার্কুলার অনুযায়ী, একই এলাকায় বসবাসকারী সহকর্মীদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে ‘কার পুলিং’ বা একই যানবাহনে যাতায়াত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মীদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে মেট্রো রেল, ইলেকট্রিক বাস এবং অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই পদক্ষেপকে পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দাপ্তরিক কাজ যতটা সম্ভব অনলাইন মাধ্যমে সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরের এই পরিবর্তনগুলি দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
