ত্রিপুরা সীমান্তে খণ্ডযুদ্ধ! আত্মরক্ষার্থে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক – এবেলা

ত্রিপুরা সীমান্তে খণ্ডযুদ্ধ! আত্মরক্ষার্থে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উনকোটি জেলার কৈলাসহর সীমান্তে চোরাচালান রুখতে গিয়ে গুরুতর আহত হলেন এক বিএসএফ জওয়ান। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরানি থানাধীন লাটিয়াপুর অঞ্চলে এই ঘটনার জেরে আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালাতে বাধ্য হন তিনি। বিএসএফের ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

চোরাচালান রুখতে গিয়ে আক্রান্ত জওয়ান

রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ লাটিয়াপুর বিওপি-র আওতাধীন আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতার সংলগ্ন এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন কনস্টেবল বিপুল গগৈ। এই সময় তিনি দেখতে পান, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে ওপারে বেশ কিছু ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের দিক থেকে কয়েকজন তা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। এই চোরাচালান কার্যকলাপে বাধা দিতে গেলে পাচারকারীরা কনস্টেবল গগৈয়ের ওপর চড়াও হয়। তাঁর হাতে লোহার দা দিয়ে কোপ বসালে তিনি গভীরভাবে আহত হন।

সহকর্মীকে আক্রান্ত হতে দেখে অন্য জওয়ানরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এবং নিজের প্রাণ বাঁচাতে কনস্টেবল বিপুল গগৈ দু’রাউন্ড গুলি চালান। গুলি চলতেই ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের পাচারকারীরাই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। তবে একটি গুলি বাঁ কাঁধে লাগায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক বাংলাদেশি যুবকের। বিএসএফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতের নাম মজিদ আলী (৩০), তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে। মরদেহটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য কৈলাসহরের জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

কাঁটাতার সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে চোরাচালান চলে আসছে। শুক্রবারের ঘটনাটি মূলত এই বেআইনি কার্যকলাপ এবং তা রুখতে যাওয়ারই পরিণতি। এই ঘটনার জেরে ওই সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতে পারে। পাশাপাশি, জওয়ানের ওপর সশস্ত্র হামলা এবং পালটা গুলিতে মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের জেরে বিএসএফ ও বিজিবি-র (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মধ্যে আগামী দিনে সীমান্ত নজরদারি ও অপরাধ দমন নিয়ে নতুন করে তৎপরতা বা কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *