দম থাকলে ছুঁয়ে দেখ! হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন রণতরীগুলোকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল রাশিয়ার বিলাসবহুল জাহাজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকা ও ইরানের রণংদেহী উত্তেজনার মাঝে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি। দুবাই থেকে ছেড়ে আসা রাশিয়ার এক ধনকুবেরের ৫শ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল প্রমোদতরি ‘নর্ড’ কোনো বাধা ছাড়াই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ইরানীয় অবরোধ ডিঙিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিদিন শয়ে শয়ে জাহাজ চলাচল করা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরান যখন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তখন রাশিয়ার এই প্রমোদতরি অতিক্রম করার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নর্ড-এর দুঃসাহসিক যাত্রা
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালী বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এখানে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর মাঝেই রাশিয়ার ইস্পাত টাইকুন আলেক্সি মোরদাশোভের মালিকানাধীন ১৪২ মিটার দীর্ঘ বিশাল এই জাহাজটি কোনো রকম হেনস্তা ছাড়াই ওমানের মাস্কাটে নোঙর ফেলে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে জাহাজটি এই সামরিক উত্তেজনার বলয় পার হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
মস্কো-তেহরান অক্ষ ও মার্কিন শক্তির পরীক্ষা
প্রমোদতরিটির এই নির্বিঘ্ন যাত্রার পেছনে রাশিয়া ও ইরানের গভীর কূটনৈতিক সম্পর্ক কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশ দুটির মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা চুক্তির ফলে এই অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বহুগুণ বেড়েছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার পরপরই এই ঘটনাটি ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন ঘনিষ্ঠ মোরদাশোভের জাহাজকে পথ ছেড়ে দিয়ে ইরান কার্যত আমেরিকার আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়ার শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে।
এক ঝলকে
- রাশিয়ার ধনকুবের আলেক্সি মোরদাশোভের ৪,১০০ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল জাহাজ ‘নর্ড’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
- আমেরিকা ও ইরানের কঠোর সামরিক অবরোধের মাঝেও জাহাজটি দুবাই থেকে ওমানে পৌঁছাতে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়নি।
- এই যাত্রাটি মূলত রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত মৈত্রীর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- উক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সত্ত্বে মোরদাশোভের জাহাজের এই চলাচল আমেরিকার জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বার্তা।
