দার্জিলিংয়ে দলবদলের খেলা, পাহাড়ে কি এবার পরিবর্তনের হাওয়া?

দার্জিলিংয়ে দলবদলের খেলা, পাহাড়ে কি এবার পরিবর্তনের হাওয়া?

লোকসভা ভোটের মুখে পাহাড়ে তৃণমূলের অন্দরে ধস, গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন প্রভাবশালী নেতারা

লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ধরল দার্জিলিংয়ে। মঙ্গলবার লপচু এলাকায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিজেপির দার্জিলিংয়ের সাংসদ তথা জাতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তার হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন একঝাঁক প্রভাবশালী ও যুব নেতৃত্ব। এই দলবদলকে পাহাড়ের নির্বাচনী সমীকরণে বড় সংকেত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

তৃণমূল ছেড়ে কারা এলেন পদ্ম শিবিরে?

নির্বাচনের প্রাক্কালে লপচু ও রঙ্গলি-রঙ্গলিয়াট ব্লকের এই দলবদল তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপরে বড় আঘাত হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। বিজেপিতে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • সুমন প্রধান: লপচু পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য।
  • বুদ্ধ মোক্তান: তৃণমূল সিনকোনা প্ল্যান্টেশন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।
  • বিএস রাই: রঙ্গলি-রঙ্গলিয়াট ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি।
  • দর্শন রাই: ব্লক যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি।

এছাড়া ব্লক উপদেষ্টা ভানু দং-সহ তৃণমূলের বহু কর্মী-সমর্থক এদিন বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন।

‘মানুষ বদল চাইছে’: রাজু বিস্তা

নবাগতদের বরণ করে নিয়ে সাংসদ রাজু বিস্তা তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি আস্থা রেখেই পাহাড়ের যুব সমাজ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। সাংসদের মতে, পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের মানুষ দীর্ঘদিনের তৃণমূলের ‘দুঃশাসন’ থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া। বিজেপির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানকে সামনে রেখেই আগামী ২৩ এপ্রিলের ভোটে পাহাড়ের মানুষ রায় দেবেন বলে তিনি আশাবাদী।

আইজিজেএফ-এও শক্তিবৃদ্ধি

একই দিনে পাহাড়ের রাজনৈতিক মানচিত্রে কিছুটা জায়গা করে নিয়েছে অজয় এডওয়ার্ডসের দল ‘ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট’ (আইজিজেএফ)। টর্জম মঙ্গর গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবার বিভিন্ন দল ছেড়ে এই দলে যোগ দিয়েছে। নবাগতদের দাবি, পাহাড়ের প্রকৃত পরিবর্তনের লক্ষ্যে অজয় এডওয়ার্ডসই বর্তমানে একমাত্র বিকল্প পথ।

সামগ্রিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের এই সাংগঠনিক ভাঙন তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত্তিকে দুর্বল করার পাশাপাশি বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাল। বিশেষ করে সিনকোনা ইউনিয়ন এবং ব্লক স্তরের নেতাদের চলে যাওয়া শাসকদলের নির্বাচনী প্রচারে বড় বাধার সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র আঞ্চলিক শক্তিগুলোর উত্থান ভোট কাটাকাটির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • ঘটনার কেন্দ্র: দার্জিলিংয়ের লপচু ও রঙ্গলি-রঙ্গলিয়াট ব্লক।
  • প্রধান রাজনৈতিক পরিবর্তন: তৃণমূলের ব্লক ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের বিজেপিতে যোগদান।
  • বিজেপির অবস্থান: রাজু বিস্তার নেতৃত্বে পাহাড়ের সাংগঠনিক শক্তি ও প্রচারের গতি বৃদ্ধি।
  • অন্যান্য দল: টর্জম মঙ্গর গ্রামে ২৫টি পরিবারের আইজিজেএফ-এ যোগদান।
  • ভোটের দিন: আগামী ২৩ এপ্রিল পাহাড়ের নির্বাচনী ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *