দিনে ৩ বার রং বদলায় শিবলিঙ্গ! অন্ধ্রপ্রদেশের এই মন্দিরের রহস্য জানলে চমকে উঠবেন।

অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীসাইলাম: যেখানে রহস্য ও আধ্যাত্মিকতার মিলন ঘটে
ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্রে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীসাইলামে অবস্থিত ভ্রমারম্বা মল্লিকার্জুন স্বামী মন্দির এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। কৃষ্ণা নদীর তীরে নাল্লামালা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মন্দিরটি কেবল তার স্থাপত্যশৈলীর জন্যই নয়, বরং এর পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা অলৌকিক রহস্যের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। মহাদেবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এই পীঠস্থানে একইসাথে শক্তিপীঠের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়, যা দেশজুড়ে অত্যন্ত বিরল একটি বৈশিষ্ট্য।
জ্যোতির্লিঙ্গের বর্ণ পরিবর্তনের অলৌকিক রহস্য
এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার স্বয়ম্ভূ শিবলিঙ্গ। প্রকৃতির নিয়মের বাইরে গিয়ে শিবলিঙ্গটি দিনে তিনবার নিজের বর্ণ পরিবর্তন করে, যা ভক্তদের কাছে এক গভীর বিস্ময়ের কারণ। স্থানীয় ভক্ত এবং মন্দিরে আগত পর্যটকদের তথ্য অনুযায়ী এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
- সকাল: শিবলিঙ্গের রং থাকে ফ্যাকাশে সাদা।
- দুপুর: সূর্যের প্রখরতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর রং পরিবর্তিত হয়ে উজ্জ্বল হলুদ ধারণ করে।
- বিকেল: দিনের শেষে এটি লালচে বা তামাটে বর্ণে রূপ নেয়।
বৈজ্ঞানিক আলোচনার ঊর্ধ্বে ভক্তদের কাছে এটি দেবাদিদেবের দৈব শক্তির এক জীবন্ত বহিঃপ্রকাশ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পাণ্ডবরা তাদের বনবাসকালে এখানে পাঁচটি গোপন শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার ঐতিহাসিক রহস্য আজও অমীমাংসিত।
নামতত্ত্ব ও পৌরাণিক তাৎপর্য
মন্দিরটির ‘মল্লিকার্জুন’ নামকরণের পেছনে এক চমৎকার পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। কথিত আছে, দেবী পার্বতী এই স্থানে মল্লিকা ফুল দিয়ে দেবাদিদেবের আরাধনা করেছিলেন। দেবীর নিষ্ঠায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব এখানে আবির্ভূত হন এবং আশীর্বাদ করেন যেন দেবীর নিবেদিত সেই ফুল কখনো শুকিয়ে না যায়। সেই থেকে এখানে মল্লিকা ফুল দিয়েই পুজো দেওয়ার দীর্ঘদিনের রীতির প্রচলন রয়েছে। মন্দিরে দেবী শক্তি ‘ভ্রমারম্বা’ রূপে বিরাজমান, যা অদ্বৈতবাদে বিশ্বাসী ভক্তদের কাছে পুরুষ ও প্রকৃতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।
মন্দির ঘিরে প্রচলিত লোকবিশ্বাস ও রহস্য
শ্রীসাইলাম মন্দিরকে ঘিরে জনমানসে এমন কিছু বিশ্বাস রয়েছে যা স্থানটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে:
- সর্প প্রহরী: শোনা যায়, ষোড়শ শতাব্দী থেকে ‘আমপালা’ নামক এক অলৌকিক সাপ এই শিবলিঙ্গ পাহারা দিয়ে আসছে। আজও অনেক ভক্ত মন্দিরের আশেপাশে এই বিশেষ সাপটির দেখা পাওয়ার দাবি করেন।
- অদৃশ্য গণেশ: ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, মন্দিরের প্রবেশদ্বারে স্বয়ং গণেশ অদৃশ্য অবস্থায় অবস্থান করেন। আগত পুণ্যার্থীদের পাপ-পুণ্যের বিচার ও হিসেব রাখা তাঁরই দায়িত্ব।
- দক্ষিণ কৈলাশ: এই স্থানের পবিত্রতা ও গুরুত্বের কারণে একে ‘দক্ষিণ কৈলাশ’ নামে অভিহিত করা হয়। মনে করা হয়, এখানে আরাধনা করলে সূর্য ও চন্দ্রের শুভ প্রভাব লাভ করা সম্ভব এবং মোক্ষপ্রাপ্তির পথ প্রশস্ত হয়।
এক ঝলকে
- অবস্থান: নাল্লামালা পাহাড়, শ্রীসাইলাম, অন্ধ্রপ্রদেশ।
- বিশেষত্ব: দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ এবং শক্তিপীঠের বিরল একীভূত অবস্থান।
- রহস্য: দিনে তিনবার (সাদা, হলুদ ও লাল) রং পরিবর্তনকারী রহস্যময় শিবলিঙ্গ।
- অন্য নাম: দক্ষিণ কৈলাশ।
- প্রধান অনুষঙ্গ: নিত্য মল্লিকা ফুলের ব্যবহার এবং কথিত সর্প প্রহরীর জনশ্রুতি।
