দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে আসল ঘাতক ধোঁয়া, জেনে নিন কী ভাবে মরণফাঁদ পাতে ‘অ্যাসফিক্সিয়েশন’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লির মালব্যনগরের একটি হোটেলে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বহু মানুষের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি দেশের অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি এক অদৃশ্য ঘাতককে নতুন করে সামনে এনেছে। চিকিৎসকদের মতে, নিহতদের বেশির ভাগেরই মৃত্যু পুড়ে যাওয়ার কারণে হয়নি, বরং বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস ফুসফুসে ঢুকে দমবন্ধ হয়ে তাঁরা মারা গিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ভয়াবহ অবস্থাকে বলা হয় ‘অ্যাসফিক্সিয়েশন’। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অগ্নিকাণ্ডে লেলিহান শিখার চেয়েও বড় বিপদ লুকিয়ে থাকে ধোঁয়া আর বিষাক্ত গ্যাসের মধ্যে।
কী এই অ্যাসফিক্সিয়েশন এবং কেন এটি এত বিপজ্জনক
অ্যাসফিক্সিয়েশন হলো এমন এক বিপজ্জনক শারীরিক অবস্থা, যেখানে মানবদেহ সচল থাকার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। অগ্নিকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়ায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকলে ফুসফুস বিষাক্ত গ্যাসে ভরে যায়। এই গ্যাস রক্তে তথা সারা শরীরে অক্সিজেন পৌঁছানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির চরম শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং শ্বাস নেওয়ার পথ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, অক্সিজেনের অভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্কের কোষগুলি মরতে শুরু করে, যা দ্রুত আক্রান্তের প্রাণ কেড়ে নেয়।
ধোঁয়ার বিষাক্ত উপাদান ও এর মারাত্মক প্রভাব
আগুন যখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তখন পুড়তে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী থেকে তৈরি হওয়া কালো ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অ্যামোনিয়ার মতো একাধিক বিষাক্ত গ্যাস থাকে। এই গ্যাসগুলি শ্বাসনালির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করলে শরীরের ভেতরে তীব্র বিষক্রিয়া তৈরি হয়। এর ফলে তীব্র কাশি, গলা ও বুকে জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা, ত্বক ও ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া এবং মানসিক বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। শেষ পর্যায়ে খিঁচুনি ও জ্ঞান হারানোর মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই কারণেই অগ্নিদগ্ধ না হয়েও কেবল ধোঁয়ার কারণে বহুতল বা বদ্ধ জায়গায় আটকে পড়া মানুষের দ্রুত মৃত্যু ঘটে। সঠিক সময়ে উদ্ধার করে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস (সিপিআর) এবং ভেন্টিলেশন সাপোর্ট না দিলে এই পরিস্থিতি থেকে রোগীকে বাঁচানো আসাম্ভব হয়ে পড়ে।
