দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে মেগা জনকল্যাণ শিবির! – এবেলা

দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে সোমবার থেকেই শুরু হচ্ছে মেগা জনকল্যাণ শিবির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির আদলেই এবার রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে ‘জনকল্যাণ শিবির’। আগামী ১৫ জুন, সোমবার থেকে প্রতিটি ব্লকে এই মেগা ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে, যা চলবে ১৭ জুন পর্যন্ত। মূলত রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিতেই এই তিনদিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এক ছাতার তলাতেই মিলবে অর্ধশতাধিক সুবিধা

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সরকারি প্রকল্প এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের মধ্যে থাকা প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক দূরত্ব সম্পূর্ণ দূর করা। এটি মূলত একটি সমন্বিত ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ বা এক জানলা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে আর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরে হয়রান হতে হবে না। এই শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, যুবশক্তি প্রকল্প, পিএম কিষাণ যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম আবাস যোজনা, কন্যাশ্রী, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এবং পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার মতো ৫০টিরও বেশি সরকারি প্রকল্পে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করা যাবে। এছাড়াও ভোটার কার্ড বা অন্যান্য নথির ভুল সংশোধন, আধার এনরোলমেন্ট এবং সিএএ (CAA)-তে আবেদনের সুবিধাও এখানে রাখা হয়েছে।

কড়া নজরদারি ও বিনামূল্যে পরিষেবা

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিবিরে ফর্ম পূরণ, আবেদনপত্র জমা ও ফটোকপির মতো সমস্ত পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিলবে। কোনো যোগ্য আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না এবং অনুমোদিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত কোনো নথি চাওয়া যাবে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি শিবিরে সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার ফুটেজ অন্তত ৩০ দিন সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিটি জমা পড়া অভিযোগ অনলাইনে নথিভুক্ত করে আবেদনকারীকে একটি ইউনিক রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হবে। জেলাশাসকদের এই শিবির পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং জেলা ও রাজ্য স্তরে বিশেষ কন্ট্রোল রুমসহ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন (1800-345-0117) চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারি পোর্টাল (jks.wb.gov.in) থেকে নিজ নিজ এলাকার শিবিরের স্থান ও তারিখ জেনে নিতে পারবেন।

উদ্যোগের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের বহু সরকারি কাজ আটকে থাকা এবং বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হওয়ার ক্ষোভ প্রশমন করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মেগা শিবিরের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও খুব সহজে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলোর আওতায় আসতে পারবেন। দ্রুত আবেদন যাচাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির এই ব্যবস্থা গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *