‘ধর্মকর্ম এড়ালে টিকে থাকা দায়!’ বাম-রণনীতিতে বড় বদলের ইঙ্গিত – এবেলা

‘ধর্মকর্ম এড়ালে টিকে থাকা দায়!’ বাম-রণনীতিতে বড় বদলের ইঙ্গিত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে বিধানসভায় খাতা খুলেছে সিপিএম। কিন্তু এই সাফল্যের কাটাছেঁড়া করতে গিয়েই আলিমুদ্দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক আত্মদর্শন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মতে, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মের ছুতমার্গ বজায় রেখে আর টিকে থাকা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা করার পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মাচরণকে মর্যাদা দেওয়া এবং পুজো, মন্দির, মসজিদ বা গির্জা কমিটির মতো সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতে বাম কর্মীদের আরও বেশি জড়িয়ে পড়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। দলের পলিটব্যুরো সদস্য এমএ বেবিও সিপিএমের দলীয় দলিলের সূত্র উল্লেখ করে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মাচরণের পার্থক্য বোঝার ওপর জোর দিয়েছেন।

সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ও জোট বিতর্ক

তবে ধর্মাচরণের এই নতুন ব্যাখ্যার সমান্তরালেই সংখ্যালঘু ভোট পাওয়ার কৌশল নিয়ে দলের অন্দরে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এবারের নির্বাচনে এসডিপিআই এবং আইএসএফ-এর মতো দলগুলোর সঙ্গে বামেদের সমীকরণ নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ক্যানিং পশ্চিমে তৃণমূল থেকে আসা আরাবুল ইসলামের আইএসএফ প্রার্থী হওয়া কিংবা পূর্ব মেদিনীপুরে আইএসএফ-এর চাপে সিপিএম জেলা সম্পাদকের প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করার মতো ঘটনাকে ভালো চোখে দেখছেন না দলের অনেক নেতাই। তাঁদের আশঙ্কা, এই কৌশলের কারণে দল ক্রমশ মুসলিম মৌলবাদের দিকে ঝুঁকছে কি না, এমন বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে যেতে পারে।

ভোটের সমীকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের কারণে সিপিএমের ঐতিহ্যবাহী ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু ভোটাররা দল থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারেন। যদিও এর বিপরীতে ডোমকল আসনের সাফল্যের উদাহরণও দেওয়া হচ্ছে, যেখানে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থনে জয়ী হয়েছেন সিপিএম প্রার্থী। দলের একটি অংশের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সমীকরণে না হাঁটলে বিধানসভায় খাতা খোলাই কঠিন হতো। তবে ভোটের তাৎক্ষণিক লাভের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দলের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রক্ষা করাই এখন আলিমুদ্দিনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এক ঝলকে

  • বিধানসভায় খাতা খোলার পর সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে নতুন আত্মদর্শন শুরু হয়েছে।
  • মানুষের ধর্মাচরণকে মর্যাদা দিয়ে পুজো, মন্দির, মসজিদ ও গির্জা কমিটিতে বাম কর্মীদের সম্পৃক্ত হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
  • এসডিপিআই বা আইএসএফ-এর মতো শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করায় দল মুসলিম মৌলবাদের দিকে ঝুঁকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলেরই একাংশ।
  • এই কৌশলের ফলে দলের ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু ভোটারদের হারানোর আশঙ্কা থাকলেও, ডোমকলের মতো আসনে জয়ের পেছনে এই সমীকরণকেই অন্যতম কারণ মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *