ধেয়ে আসছে গডজিলা এল নিনো, ভয়াবহ খরা ও তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে ভারত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পেরুর উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এল নিনো’ বলা হয়। সাধারণত ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে চলা এই আবহাওয়াগত পরিবর্তন এবার ভারতে বড়সড় বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হতে পারে যে একে ‘গডজিলা এল নিনো’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলরাশির এই প্রভাব ভারতের দৈনন্দিন জীবন, কৃষিকাজ এবং সার্বিক আবহাওয়ামণ্ডলে প্রবল গোলযোগ সৃষ্টি করতে চলেছে।
কৃষিতে কোপ ও সম্ভাব্য খাদ্য সংকট
ভারতের প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি আজও সেচব্যবস্থার চেয়ে মৌসুমী বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। ধান, সয়াবিন, তুলা, ডাল ও ভুট্টার মতো ফসলের ফলন মূলত পর্যাপ্ত বৃষ্টির জলেই নির্ভর করে। এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে এবং দীর্ঘসময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করলে ফসল উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হবে। জলের অভাবে কৃষকরা বীজ বোনার সময় পিছিয়ে দিতে বাধ্য হবেন, যা অচিরেই দেশে এক বড় মাপের খাদ্য সংকটের জন্ম দিতে পারে।
অর্থনীতিতে প্রভাব ও মূল্যবৃদ্ধি
এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাব শুধুমাত্র কৃষিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সার্বিক অর্থনীতিতেও আঘাত হানবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি সতর্ক করেছে যে, কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারের খাদ্য সরবরাহের ওপর। জোগান কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ডাল ও অন্যান্য শস্যজাতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়বে। এর ফলে আগামী দিনে আমজনতার জীবনযাত্রা ও পকেটে বড় ধরনের টান পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
