নবান্নে প্রথম কর্মদিবসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ধামাকা, সীমান্ত সুরক্ষা ও আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে ৬টি বড় সিদ্ধান্ত

নবান্নে প্রথম কর্মদিবসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ধামাকা, সীমান্ত সুরক্ষা ও আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে ৬টি বড় সিদ্ধান্ত

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সোমবার নবান্নে নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মদিবসেই একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রিসভার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামো বদলে দেওয়ার মতো ছয়টি বড় ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে জাতীয় সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ: বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর

জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, ভারতের সীমান্ত আরও সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আজ সোমবার থেকেই শুরু করা হলো। রাজ্যের ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের সচিব এবং মুখ্যসচিবকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে চিহ্নিত সমস্ত জমি বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত সংঘাত মোকাবিলায় জওয়ানদের কাজ আরও সহজ হবে।

আয়ুষ্মান ভারতের ছাতার তলায় বাংলা

রাজ্যের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (PM-JAY) প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার চূড়ান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে রাজ্যের সাধারণ মানুষ কেবল রাজ্যের প্রকল্প নয়, বরং সারা দেশে প্রযোজ্য এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমার ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধাও পাবেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত ৬টি প্রধান সিদ্ধান্ত:

১. সীমান্ত সুরক্ষা: বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু এবং ৪৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ।

২. আয়ুষ্মান ভারত: স্বাস্থ্য পরিষেবায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প কার্যকর করা।

৩. চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি: সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বতম বয়স ৫ বছর বাড়িয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের সুযোগ প্রদান।

৪. বিএসএনএস (BNS) কার্যকর: আজ থেকেই রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) বা নতুন কেন্দ্রীয় আইন পুরোপুরি বলবৎ করা।

৫. জনগণনা শুরু: থমকে থাকা জনগণনার কাজ সোমবার থেকেই প্রশাসনিকভাবে চালু করা।

৬. অফিসারদের ট্রেনিং: রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার অনুমতি।

নতুন যুগের সূচনা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেন্দ্রের সঙ্গে বিবাদ নয় বরং সমন্বয়ের মাধ্যমেই তিনি বাংলার উন্নয়ন করতে চান। বিশেষ করে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তাঁর সরকারের আপসহীন অবস্থানের বার্তা দিলেন। নবান্ন সূত্রে খবর, এই সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত সীমান্ত সুরক্ষা থেকে স্বাস্থ্য—সবক্ষেত্রেই ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের গতি আনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলো নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *