নরকের যন্ত্রণা সহ্য করে অবশেষে রুখে দাঁড়ালেন নববধু, পণের দাবিতে অমানুষিক অত্যাচারের শিকার গৃহবধূ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নতুন বউয়ের জীবনে নেমে এল নরকযন্ত্রণা! পণ আর অমানবিক নির্যাতনের জেরে অবশেষে পুলিশের দুয়ারে গৃহবধূ
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে এক মর্মান্তিক পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে বিবাহের ছয় মাসের মাথায় এক নববধূর জীবন কার্যত নরকে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম খুশি মিশ্র। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পরেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর অমানুষিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।
পণ এবং অবমাননার শিকার গৃহবধূ
অভিযোগ অনুযায়ী, গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন নতুন বাড়ির ওপরতলা নির্মাণের জন্য তার বাপের বাড়ি থেকে দেড় লক্ষ টাকা পণ হিসেবে দাবি করে। এই টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। শুধু অর্থনৈতিক শোষণই নয়, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, সে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল এবং স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত করত। তাকে পড়াশোনা না জানা এবং দেখতে সুন্দর নয়—এই মর্মে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে অপদস্থ করা হতো।
অমানবিক নির্যাতনের চরম সীমা
নির্যাতনের মাত্রা এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, শাশুড়ি তাকে গরম তাওয়া দিয়ে ছ্যাকা দেওয়ার মতো নৃশংস কাজও করেছে। বিগত পাঁচ মাস ধরে চলা এই দুর্বিষহ যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হন। তার বাবার করা অভিযোগের ভিত্তিতে ইন্দোরের দ্বারকাপুরি থানা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট স্বামী, শাশুড়ি এবং অন্যান্য আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, সমাজে পণের মতো কুপ্রথা আজও কতটা গভীর শিকড় গেড়ে আছে তা স্পষ্ট। আর্থিক লোভ এবং পারিবারিক আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতাই নারীর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের মূল কারণ। এই ঘটনাটি যেমন সমাজের অন্ধকার দিক উন্মোচিত করেছে, তেমনই ভুক্তভোগী নারীর আইনি পথে লড়াই করার সাহসিকতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ বার্তা বহন করে। এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই ভবিষ্যতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।
