৮ জুন দিল্লিতে তৃণমূলে বড় ভাঙনের জল্পনা, ইন্ডিয়ার বৈঠকের দিনই কি নয়া ব্লক গড়ছেন সাংসদরা – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/01/09/CBF7JvTT9ozUtGIcku8h.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
আগামী ৮ জুন দেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে যখন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা, ঠিক তখনই লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী জোটের শক্তি প্রদর্শনের দিনেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল প্রকাশ্যে এলে তা জাতীয় রাজনীতিতে দলটির অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা ও দিল্লির সমীকরণ
সূত্রের খবর, কয়েক দফা গোপন রাজনৈতিক আলোচনার পর তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ একটি বড়সড় পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানা গিয়েছে, দিল্লিতে তৃণমূলের এক প্রভাবশালী সাংসদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, আরও কয়েকজন অসন্তুষ্ট সাংসদও এই প্রক্রিয়ায় শামিল হতে পারেন। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে লোকসভার স্পিকারের কাছে দলত্যাগী বা বিক্ষুব্ধ সাংসদদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জমা দিয়ে নতুন ব্লক তৈরি করা হতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। ঘটনাচক্রে ওই দিনই সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে থাকবেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যা এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
নেতৃত্বের অসন্তোষ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
দলের এই সম্ভাব্য ভাঙনের আবহে লোকসভায় নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি এই জল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি। তবে দলে যে মতভেদ রয়েছে, তা স্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন যে কিছু বিষয়ে তাঁর অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যসভাতেও সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যসভার বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি শারীরিকভাবে দলে থাকলেও মানসিকভাবে নিজেকে দলের সঙ্গে মেলাতে পারছেন না। রাজনীতি থেকে অবসর বা দল ছাড়ার মতো বিকল্প তাঁর সামনে খোলা রয়েছে।
পাল্টা সুর চড়িয়ে বাবুল সুপ্রিয়র মতো নেতারা বলছেন, দলবিরোধী অবস্থান নিলে নির্বাচিত পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত। এই টানাপোড়েনের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের একক আধিপত্য যেমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, তেমনই লোকসভা ও রাজ্যসভায় দলের শক্তি কমলে জাতীয় স্তরেও দলের দর কষাকষির ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৮ জুনের দিল্লির এই ঘটনাক্রমই ঠিক করে দেবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
