রাজনীতির রঙ ভুলে এক মঞ্চে মদন-কল্যাণ-সৌরভ, ময়দানে কি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সভাপতি কল্যাণ চৌবের আহ্বানে কলকাতার ক্রীড়া ময়দানে বসেছিল চাঁদের হাট। এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একই মঞ্চে পাশাপাশি দেখা গেল যুযুধান দুই শিবির—তৃণমূল ও বিজেপির প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতাদের। সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে এই মিলন উৎসব ঘিরে ইতিমধ্যেই বাংলার ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই জমায়েতে বিজেপির কল্যাণ চৌবে, অশোক দিন্দাদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা মদন মিত্র, দেবাশিস কুমার এবং রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। সবচেয়ে নজরকাড়া উপস্থিতি ছিল আইএফএ সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজনৈতিক মতাদর্শের চরম বিরোধিতা ভুলে নেতাদের এমন এককাট্টা হওয়াকে অনেকেই ময়দানী রাজনীতির এক নতুন ও জটিল সমীকরণ হিসেবে দেখছেন।
রাজনীতি বনাম ময়দান
অনুষ্ঠানে যোগ দিলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা ময়দান এবং সক্রিয় রাজনীতিকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন। আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ময়দানে রাজনৈতিক মানুষের যাতায়াত চিরন্তন এবং কল্যাণ চৌবের ডাকে সাড়া দেওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। একে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা অবান্তর। অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, যে কোনো মূল্যে ময়দানকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
মিলন উৎসবের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অভাবনীয় সৌজন্যের নেপথ্যে রয়েছে ময়দানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা এবং প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা। রাজ্য ও কেন্দ্রের ক্রীড়া নিয়ামক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে দুই শিবিরের একে অপরকে প্রয়োজন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনাও কম হচ্ছে না। সমালোচকদের একাংশ একে ‘পিঠ বাঁচাতে ময়দানকে আশ্রয় করার কৌশল’ হিসেবে দেখলেও, ক্রীড়াপ্রেমীদের আশা, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ শেষ পর্যন্ত বাংলার ফুটবল ও সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
