নারীশক্তির জয়গান, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদীর বড় বার্তা!

নারীশক্তির জয়গান, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদীর বড় বার্তা!

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে তৎপর কেন্দ্র: সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন দিগন্তের হাতছানি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতে মহিলা সংরক্ষণ বিল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার ঘোষণার প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লেখা সাম্প্রতিক একটি খোলা চিঠি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দেশের ‘নারী শক্তি’-র উদ্দেশে লেখা এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, আইনসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে তাঁর সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নারীশক্তির ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সংসদে মহিলাদের কণ্ঠস্বর জোরালো করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের কন্যাদের আর অনন্তকাল অপেক্ষা করিয়ে রাখা সমীচীন নয়। তার মতে, পরিষদীয় ও সংসদীয় ক্ষেত্রে মহিলাদের আসন সংরক্ষণ সুনিশ্চিত হলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও মজবুত হবে। বাবাসাহেব আম্বেদকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের আসাম্পূর্ণ কাজ বাস্তবায়নে সরকার এখন দায়বদ্ধ। ২০২৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে কেন্দ্র।

সংসদের বিশেষ অধিবেশন ও সম্ভাব্য পরিকল্পনা
সংসদের আসন্ন তিনদিনের বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বড় পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। মূলত সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই সরকার এই লক্ষ্য পূরণ করতে চায়। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকারের পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো হলো:

  • সংসদ এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।
  • লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০-এ উন্নীত করা।
  • নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহিলা সংরক্ষণকে মসৃণ করা।
  • আসন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৮১৫টি আসন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য বরাদ্দ করা।

রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভিন্নমত
এদিকে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে বিরোধী শিবিরে কিছুটা সংশয় ও আপত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সময়সীমা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এই প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে সরব হয়েছেন। বিরোধী দলগুলোর প্রধান আপত্তি আসন পুনর্বিন্যাসের মাপকাঠি নিয়ে। তাদের দাবি, দীর্ঘ পুরোনো ২০১১ সালের জনগণনার পরিবর্তে ২০২১ সালের নবীন তথ্য বা সেনসাসের ভিত্তিতে এই আসন পুনর্বিন্যাস হওয়া উচিত। বিরোধীদের মতে, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে তা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এক ঝলকে:

  • প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য: ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা।
  • সংরক্ষণ ও আসন বৃদ্ধি: লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার প্রস্তাব। লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনা।
  • প্রক্রিয়া: সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটছে কেন্দ্র।
  • রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব: বিশেষ অধিবেশনের সময়সীমা এবং সেনসাস সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *