নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান: জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে তল্লাশি, নিখোঁজ ৪২১৬ – উদ্ধারকাজে সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২৫২ ছাড়িয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত ৪২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাসুয়া জেলার লাংতাং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-২-এর সুড়ঙ্গের ভিতরে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নেপাল পুলিশ এবং নেপালি সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার নেপাল পুলিশের তরফে সামাজিক মাধ্যমের সাহায্যে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিপর্যয় এতটাই ভয়াবহ যে ঘুটঘুটে অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভিতরেও চরম ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গেই জড়িত প্রায় ৯০০ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের খোঁজে নেমেছে সেনা-পুলিশের যৌথ বাহিনী।
জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDRRMA) বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যা ও ভূমিধসে পুরো নেপাল জুড়েই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চিতওয়ান জেলায়, যেখানে এখনও পর্যন্ত ৩৫৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নওয়ালপরাসী (পূর্ব), যেখানে ২১৮ এবং পশ্চিমে ২০৮টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া নুওয়াকোটে মৃতের সংখ্যা ১৭৭ এবং রাসুয়ায় ১২৭ জন।
উদ্ধারকাজ এখনও পুরোপুরি সমাপ্ত হয়নি। এ পর্যন্ত মাত্র ৯৫টি মৃতদেহ শনাক্ত করে পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা স্পষ্ট করে দেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ১১,৯৯৩ জনকে সুস্থভাবে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫,১৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০১ জন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনী ৩,২০৬ জনকে এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ১,৬২৮ জনকে উদ্ধার করেছে।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কেবল নেপালি নাগরিকরাই নন, অনেক বিদেশিরাও আটকে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা ১৬৪ জন নেপালি নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অথবা তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ভূমিধস, বন্যার জল এবং ধ্বংসস্তূপে ঢেকে থাকা এলাকাগুলিতে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ২১ হাজারের বেশি কর্মী উদ্ধার, তল্লাশি, ত্রাণ বিতরণ এবং অন্যান্য জরুরি কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ট্রাক, গাড়ি এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে খাবার ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নুওয়াকোট এবং রাসুয়া জেলায় আকাশপথেও ত্রাণ পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৩,৯৪৮ জন মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে নুওয়াকোটে ২,৯৮১ জন, রাসুয়াতে ৩২০ জন, ধডিং-এ ২৬০ জন এবং কাঠমান্ডুতে ৩৮৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
