নেহরুর ‘ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে মোদীর ‘ভারত’, হরদীপ সিং পুরির বিশ্লেষণে উঠে এল পালাবদলের চিত্র! – এবেলা

নেহরুর ‘ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে মোদীর ‘ভারত’, হরদীপ সিং পুরির বিশ্লেষণে উঠে এল পালাবদলের চিত্র! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সম্প্রতি দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালনের এক অনন্য নজির গড়েছেন নরেন্দ্র মোদী। এই প্রেক্ষিতেই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর আমলের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনামূলক এক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। তাঁর মতে, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘অন্ত্যোদয়’ বা প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার যে মাপকাঠি রয়েছে, সেই পথ ধরেই নেহরুর ‘ইন্ডিয়া’ থেকে এক দীর্ঘ যাত্রা পেরিয়ে আজকের মোদীর ‘ভারত’-এ উত্তরণ ঘটেছে।

অর্থনীতির পালাবদল ও কাঠামোগত সংস্কার

পণ্ডিত নেহরু যখন দেশের দায়িত্ব নেন, তখন ভারত ছিল দেশভাগ ও ব্রিটিশ শোষণে বিপর্যস্ত। সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে তিনি সাংবিধানিক গণতন্ত্র, পরিকল্পনা কমিশন থেকে শুরু করে মহাকাশ কর্মসূচির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ভিত গড়েছিলেন। অন্যদিকে, হরদীপ সিং পুরির মতে, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন দেশের অর্থনীতি বিশ্বের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ বা ভঙ্গুর পাঁচটির অন্যতম হিসেবে পরিচিত ছিল। আটকে থাকা প্রকল্প, মাত্রাছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির মতো সমস্যাগুলি তখন প্রকট। এই জোড়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মোদী সরকার পরিকল্পনা কমিশনের বদলে ‘নীতি আয়োগ’ গঠন করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যগুলির সঙ্গে আরও নিবিড় সমন্বয় সাধন করা। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলেই দেশের আর্থিক ভিত মজবুত হওয়া শুরু হয়।

প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়ন ও জনজীবনে তার প্রভাব

মোদী সরকারের আমলের অন্যতম বড় সাফল্য হলো প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। পরিচয়পত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ফোন—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে সরকার মধ্যস্বত্বভোগীদের পুরোপুরি নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ জনধন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতায় এসেছেন। এর পাশাপাশি পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ২০টি শহরে মেট্রো রেল, দ্বিগুণ বিমানবন্দর, উড়ান প্রকল্পের মাধ্যমে সস্তা বিমানভ্রমণ এবং দেশীয় প্রযুক্তির সেমি হাইস্পিড ট্রেন আজ বাস্তব। পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা, উজ্জ্বলা যোজনায় ১০ কোটির বেশি পরিবারকে রান্নার গ্যাস এবং ৪ কোটি পাকা বাড়ি প্রদানের মতো পদক্ষেপগুলি প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষকে আজ আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পরিকল্পনাগুলি সরাসরি তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *