মমতার হাত ছেড়ে এবার কি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের দৌড়ে শতাব্দী রায় – এবেলা

মমতার হাত ছেড়ে এবার কি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের দৌড়ে শতাব্দী রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের পর এবার জাতীয় রাজনীতিতে ‘বিদ্রোহের সম্ভাব্য পুরস্কার’ ঘিরে জল্পনা তীব্র হয়েছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ যোগ দিয়েছেন নবগঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-তে। এই ব্যাপক দলবদলের ফলে দিল্লির এনডিএ শিবিরে দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে এই নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ। এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের আবহে খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

বদলে যাওয়া সমীকরণ ও মন্ত্রিত্বের জল্পনা

দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে জোর খবর, আসন্ন মন্ত্রিসভার রদবদলে বিদ্রোহী শিবিরের দু’একজন সাংসদকে পুরস্কৃত করা হতে পারে। এই দৌড়ে অভিজ্ঞ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বীরভূমের প্রবীণ সাংসদ শতাব্দী রায়ের নাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, শতাব্দী রায়কে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বঙ্গ বিজেপি থেকেও কাউকে পূর্ণমন্ত্রী করা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপিআই-এর বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই লোকসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

উন্নয়নের দাবিতে সুরবদল বিদ্রোহীদের

তৃণমূল শিবিরে এই ভাঙনের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ কাজের পরিবেশ এবং সমন্বয়হীনতাকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সম্প্রতি হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান পরিবর্তনের পর এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। লোকসভা সচিবালয়ে গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর করার পর তিনি জানিয়েছেন, গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন কার্যত থমকে ছিল এবং কাজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সঠিক সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত গতিতে জনকল্যাণমূলক কাজ করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি বিদ্রোহীদের।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

তৃণমূলের এই বিশাল ভাঙন এবং নতুন শরিক দলের উত্থান জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে চলেছে। একদিকে যেমন দিল্লিতে এনডিএ জোটের অভ্যন্তরে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গেও শাসক শিবিরের উপর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শতাব্দী রায় বা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের কেন্দ্রীয় স্তরে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা রাজ্যের শাসক দলের জন্য বড় ধাক্কা হবে এবং এর ফলে বঙ্গ রাজনীতিতে আগামী দিনে ক্ষমতার সমীকরণ আরও দ্রুত ও নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *