নৈহাটিতে তৃণমূল নেতার ছেলেকে জুতোপেটা! আদালতে নেওয়ার পথে আছড়ে পড়ল জনরোষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদলের আবহে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ শাসকদলের নেতারা। এবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাধারণ মানুষের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়লেন নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ। শুক্রবার রাতে সোদপুরের একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার ব্যারাকপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ঘেরাটোপের মাঝেই ধৃতের উপর কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষুব্ধ জনতা। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি চলে জুতোপেটা, চড়-থাপ্পড় ও ধাক্কাধাক্কি।
বিক্ষোভের কারণ ও পুঞ্জীভূত ক্ষোভ
ধৃত অভিজিতের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর ও শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাবার রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নৈহাটিতে সন্ত্রাসের পরিবেশ কায়েম করেছিলেন তিনি। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার থেকে শুরু করে এলাকার জনবিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টার মতো মারাত্মক অভিযোগও তুলেছেন সাধারণ মানুষ। ক্ষমতার দম্ভে এতদিন যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, আইনের জালে আটকা পড়তেই তাঁদের বিরুদ্ধে মানুষের এই দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের তীব্র বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।
জনরোষের মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুরসভার দশা অত্যন্ত ভঙ্গুর। গণইস্তফার জেরে পুরবোর্ডগুলি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই হাইপ্রোফাইল নেতার ছেলের এমন পরিণতি এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এদিন থানা থেকে বের করার সময় বাঁশের ব্যারিকেড ভেঙে মহিলারা যেভাবে জুতো হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ‘চোর’ স্লোগান দেন, তা শাসকদলের ভাবমূর্তির উপর বড় ধাক্কা। পুলিশ শেষমেশ কোনওক্রমে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচিয়ে ধৃতকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পরবর্তী তদন্তের আবেদন জানাতে চলেছে প্রশাসন।
