পকেটের মোবাইলে রুখল মৃত্যু নিশ্চিত মৃত্যু, শুটআউটের কবলে তৃণমূল কর্মী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের উত্তাপের মাঝেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল হালিশহর। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক আগেই সাত সন্ধ্যায় প্রকাশ্য রাস্তায় চলল গুলি। শনিবার সন্ধ্যায় হালিশহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্রি পুকুর রোডে প্রসেনজিৎ মৌলিক ওরফে রাজা নামে এক তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা। হামলায় প্রসেনজিতের পেটে একটি গুলি লাগলেও, অলৌকিকভাবে বুক পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি দুটি গুলি আটকে দেওয়ায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও অভিযোগের তির
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বীজপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারীর দাবি, হারের ভয়ে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাসের পালটা দাবি, এলাকার দুষ্কৃতীরা আদতে তৃণমূল আশ্রিত এবং এটি তাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। জখম ব্যক্তির দাদা বিশ্বজিৎ মৌলিকও ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক, তবে ঠিক কারা এই হামলার পেছনে রয়েছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
তদন্তে পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
শিল্পাঞ্চল এলাকায় গত দুই দিনে এটি দ্বিতীয় গুলি চলার ঘটনা। এর আগে জগদ্দলে এক জওয়ানের পায়ে গুলি লাগার ঘটনা ঘটেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল গিয়ে আক্রান্ত কর্মীর বয়ান নথিভুক্ত করেছে এবং স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্রমাগত এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এক ঝলকে
- হালিশহরে তৃণমূল কর্মী প্রসেনজিৎ মৌলিককে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি।
- পেটে একটি গুলি লাগলেও বুক পকেটে থাকা মোবাইলে দুটি গুলি আটকে যাওয়ায় প্রাণরক্ষা।
- তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির দিকে অভিযোগ তোলা হলেও তা অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
- ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
