৩ জন ভোটারের জন্য ৩০ হাজার টাকা দাবি! বিএলও-র কর্মকাণ্ডে রণক্ষেত্র বনগাঁ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের মুখে ভোটার স্লিপ বিলিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন বনগাঁ এলাকায় এক বিএলও-র (বুথ লেভেল অফিসার) বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা দাবি করার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, টাকা না দিলে ভোটার স্লিপ আটকে রাখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে অভিযুক্ত বিএলও-র বাড়ির সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
টাকা না দিলে মিলছে না স্লিপ
স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল বিশ্বাসের অভিযোগ, তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এসআইআর শুনানির নাম করে বিএলও মৃন্ময় রায় প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁদের ভোটার স্লিপ আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। শুধু সুশীল বাবু নন, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, ওই বিএলও প্রায় ৫০ জন বৈধ ভোটারের কাছ থেকে একই কায়দায় টাকা হাতিয়েছেন। এমনকি ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগেও স্লিপ দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
বিএলও মৃন্ময় রায় অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং ভোটার স্লিপ খুঁজে না পাওয়ার কারণেই বিলিতে দেরি হয়েছিল। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতৃত্ব বিএলও-দের একাংশের বিরুদ্ধে শাসকদলের হয়ে কাজ করা এবং ‘কাটমানি’ চাওয়ার অভিযোগ তুলছে। অন্যদিকে, সুশীল বিশ্বাসের পরিবার ই-মেলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কমিশনের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও বিএলও-র এই আচরণে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এক ঝলকে
- বনগাঁর পুরাতন বনগাঁ এলাকায় ভোটার স্লিপ দেওয়ার নামে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ বিএলও মৃন্ময় রায়ের বিরুদ্ধে।
- টাকা না দেওয়ায় ভোটার স্লিপ আটকে রাখা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে সোমবার রাতে বিএলও-র বাড়ির সামনে বিক্ষোভ।
- নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
- অভিযুক্ত বিএলও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
