‘পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে তৃণমূল!’ গণনার ঠিক আগে শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক দাবি

ভোটগণনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গণনা প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণের অনুমতি চেয়ে তৃণমূলের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে তিনি দাবি করেন, এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই শাসকদল কার্যত নিজেদের হার কবুল করে নিয়েছে। সোমবারের মহারণের আগে শমীকবাবুর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
‘হার হজম করতে পারছেন না মমতা’
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়েছেন এবং তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইভিএম কারচুপির অভিযোগকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হার নিশ্চিত জেনেই এখন অজুহাত খুঁজছে ঘাসফুল শিবির। একই সঙ্গে তিনি একটি বড় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে নামী আইনজীবীদের পেছনে তৃণমূল সরকার কত টাকা খরচ করেছে, আগামী ৬ মাসের মধ্যে তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে বিজেপি।
পাল্টা আক্রমণে কুণাল, আইনি লড়াইয়ে ইতি
বিজেপির এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিই আসলে গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার চক্রান্ত করছে এবং পরাজয়ের ভয়ে প্রলাপ বকছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, ৪ মে তৃণমূল এক বিশাল জয় হাসিল করবে। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের আবেদনে বিশেষ কোনো নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে সাফ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী গণনা প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারি ও পিএসইউ (PSU) কর্মীরাও মোতায়েন থাকবেন।
ফলতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় উত্তেজনা
গণনার ঠিক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের। ফলতায় তৃণমূল ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সিআরপিএফ ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। একদিকে আগামীকাল ২৯৩টি আসনের গণনা, অন্যদিকে ফলতায় ২১ মে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। কালকের ফলাফলই বলে দেবে শমীক ভট্টাচার্যের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত।
