“পরের জন্মেও হতে চাই সবুজ-মেরুন সেবক!” চিরবিদায় নিলেন ময়দানের ‘অজাতশত্রু’ টুটু বসু – এবেলা

“পরের জন্মেও হতে চাই সবুজ-মেরুন সেবক!” চিরবিদায় নিলেন ময়দানের ‘অজাতশত্রু’ টুটু বসু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা ময়দানে দীর্ঘ তিন দশকের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটল। মঙ্গলবার রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রাণপুরুষ ও প্রবাদপ্রতিম ক্রীড়া প্রশাসক টুটু বসু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা ক্রীড়ামহলে।

তিন দশকের একনিষ্ঠ নেতৃত্ব ও মোহনবাগান রত্ন

১৯৯১ সালে কিংবদন্তি সচিব ধীরেন দে-র উত্তরসূরি হিসেবে মোহনবাগান ক্লাবের সচিবের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন টুটু বসু। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সচিব এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন তিনি। মাঝে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মেয়াদেও তিনি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মোহনবাগান ক্লাবের প্রতি তাঁর এই দীর্ঘকালীন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বছর ২৯ জুলাই তাঁকে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। সেই সংবর্ধনা সভায় আবেগপ্রবণ কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, পুনর্জন্ম বলে যদি কিছু থাকে, তবে সেই জন্মেও তিনি যেন মাতৃসম মোহনবাগান ক্লাবের সেবা করতে পারেন।

ক্রীড়া প্রশাসনে শূন্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

টুটু বসুর মৃত্যুতে কেবল একটি ক্লাবের ক্ষতি নয়, বরং ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনের একজন অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারাল ময়দান। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একা হাতে ক্লাবকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাঁকে ‘অজাতশত্রু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাঁর প্রয়াণে মোহনবাগান ক্লাবের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোয় যেমন বড়সড় শূন্যতা তৈরি হলো, তেমনি ময়দানের দলবদল ও ক্লাব রাজনীতির ভারসাম্যেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটে পর্যন্ত মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুতে তাঁর মরদেহ শায়িত রাখা হবে, যেখানে সমর্থক ও অনুগামীরা তাঁদের প্রিয় ‘টুটু দা’-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *